গতকাল বুধবার বিকেলের দিকে মাছগুলো জালে আটকা পড়ে। পরে মাছগুলো নদীর তীরে আড়তে নিয়ে নিলাম করলে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী নেয়ামত উল্যাহ ও আবদুল মান্নান যৌথভাবে ৩ মণ ৫ কেজি ইলিশ মাছ ১ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন। তাঁরা বাজারে এনে ৫০টি বড় মাছ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকাসহ সবগুলো মাছ ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, উপজেলার আর্দশগ্রাম এলাকার জেলে মো. নয়ন মিয়াসহ ১০ জন জেলে বুধবার সকালে ইলিশ মাছ ধরতে বড় ফেনী নদীর শেষ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জাল ফেলে বসেছিলেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জোয়ার কমতে থাকায় জালে আচমকা টান মারলে বুঝতে পারেন, বড় কিছু আটকা পড়েছে। পরে জাল টেনে নৌকায় তুলতেই সবাই দেখতে পান, বড় বড় ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে ছোট ইলিশও ধরা পড়েছে।

জেলে নয়ন মিয়া বলেন, মাছ ধরা শেষে বিকেলের দিকে নদী থেকে ফিরে মাছগুলো স্থানীয় আড়তে বিক্রি করতে নিয়ে যান। সেখানে নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে তিনি মাছগুলো বিক্রি করেছেন।

মৎস্য ব্যবসায়ী নেয়ামত উল্যাহ বলেন, মাছগুলো বিক্রি করার জন্য সন্ধ্যায় পৌর শহরের মাছবাজারে নিয়ে আসেন। বাজারে উৎসুক অনেকে বড় ইলিশ মাছগুলো দেখতে ভিড় করেন। আবার অনেকে শখ করে বেশি দাম হলেও একটা-দুটা করে মাছ কিনে নেন।

আবদুল মান্নান বলেন, দুই কেজির ইলিশ ১৭শ টাকা কেজি দর হাঁকান। পরে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১৫০০ ও ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। এছাড়া অন্য ইলিশ মাছগুলো ৬০০-৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, সম্প্রতি বড় ও ছোট ফেনী নদীতে ইলিশ ছাড়াও ৫ থেকে ২০ কেজি ওজনের কোরাল, বোয়াল, কাতলা, পাঙাশ, বাগাড়সহ বিভিন্ন ধরনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। নদীর মাছ সুস্বাদু হওয়ায় দামও একটু বেশি।

উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা প্রথম আলোকে বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের আগে মাঝেমধ্যে অন্যান্য প্রজাতির বেশ বড় মাছ পাওয়া গেছে। এই মৌসুমে নদীতে একাধিকবার তিন কেজি ও দুই কেজি ওজনের বড় ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে। তবে সামনে আরও বড় বড় মাছ ধরা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন