ব্যাংক ঘেরাওয়ের পর বেতন পেলেন চুয়েটের শিক্ষক-কর্মকর্তারা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। কর্মচারীদের ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচির পরে আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের হস্তক্ষেপে তাঁদের বেতন ও ভাতা বন্ধ ছিল।
বেতন-ভাতা আটকে দেওয়ার প্রতিবাদে আজ চুয়েটে সোনালী ব্যাংকের শাখা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা। বেলা ১১টায় তাঁদের কর্মসূচি শুরু হয়। এর দেড় ঘণ্টা পর বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। এরপর ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যান। আন্দোলনের মুখে ক্যাম্পাসে যেতে না পারলেও ব্যাংকে একটি ই-মেইল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে দেন নতুন উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিককে ই-মেইল করে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ৫ অক্টোবর সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক নতুন উপাচার্যকে একটি ফিরতি ই-মেইল পাঠান। এতে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার ও উপ-কম্পট্রোলারের স্বাক্ষরসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতনের বিল পেয়েছেন। এর জবাবে উপাচার্য আবার ই-মেইল দিয়ে জানান, উপাচার্যের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতনের বিল পাঠানো ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’।
ই-মেইলে উপাচার্য উল্লেখ করেন, চুয়েট আইন ২০০৩-এর ধারা ১৩ (৭) অনুযায়ী উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যেকোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ। এই অননুমোদিত লেনদেনের ফলে কোনো আর্থিক অনিয়ম, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা আইনি জটিলতা সৃষ্টি হলে এর জন্য উপাচার্য বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো আইনগত, প্রশাসনিক বা আর্থিক দায়ভার বহন করবে না। অনুমোদনবিহীন এসব নথি প্রস্তুত ও প্রেরণের মাধ্যমে যে লঙ্ঘন ঘটেছে, তার একক ও সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট ওই দুই কর্মকর্তার ওপরই বর্তাবে। পাশাপাশি এর জন্য সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষও দায়ী থাকবে। উপাচার্যের এই ই-মেইলের পর বেতন-ভাতা আটকে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘চুয়েটের চিরাচরিত নিয়ম অনুসারে কম্পট্রোলার ও সহ-কম্পট্রোলার স্বাক্ষরেই বেতন ভাতা দেওয়া হতো। কিন্তু এবার নতুন উপাচার্য বেতন আটকে দিয়েছিলেন। এর প্রতিবাদে আমরা ব্যাংক ঘেরাও করে অবস্থান নিই। এর মধ্য্যেই আমাদের বেতনের মেসেজ (খুদে বার্তা) এসেছে। আমাদের দাবির মুখে চুয়েটের চিরাচরিত নিয়ম অনুসারেই আমরা বেতন দেওয়া হয়েছে।’
জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক প্রথম আলোকে বলেন, কর্মচারীদের ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বেতন-ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। এ কারণে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সবার বেতন ভাতা দেওয়া হয়েছে।