নরসিংদীতে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই তরুণ নিহত
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু হয়। পরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অন্যজন।
এ ঘটনায় আহত আরেক তরুণ জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন আছেন।
গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার বাজনাব এলাকার ইটাখোলা-মনোহরদী আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের আবদুর রব মিয়ার ছেলে রুমান মিয়া (২৬) এবং নরসিংদী সদর উপজেলার শীলমান্দী ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামের শাহ আহাম্মদের ছেলে চান মিয়া (১৯)। আহত আবদুল্লাহ (১৯) একই ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল নিজের মোটরসাইকেলে শেরপুর থেকে নরসিংদীতে ফিরছিলেন রুমান মিয়া। অন্যদিকে বন্ধু আবদুল্লাহর মোটরসাইকেলে চড়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন চান মিয়া। সন্ধ্যায় বাজনাব এলাকায় মোটরসাইকেল দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রুমান মিয়ার মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত চান মিয়া ও আবদুল্লাহকে উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে চান মিয়ার মৃত্যু হয়। পরে আহত আবদুল্লাহকে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রুমান মিয়ার স্ত্রীর ভাই শরীফ আহমেদ বলেন, ‘আমার বোন ও ছোট ছোট দুই সন্তানকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।’
চান মিয়ার চাচা সোলেমান খান বলেন, চান মিয়া একটি ডাইং কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঈদের ছুটিতে বন্ধুর সঙ্গে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে।
শিবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় বালা বলেন, অভিযোগ না থাকায় রুমান মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া চান মিয়ার মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।