রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও ৫৪ আইসিইউ শয্যা যুক্ত হচ্ছে
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ১০০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আগে থেকেই হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৪৬টি শয্যার আইসিইউ ইউনিট চালু ছিল। সেখানে নতুন করে আরও ৫৪টি শয্যা যুক্ত হবে। পাশাপাশি সরকারের অনুমোদন থাকার কারণে আইসিইউ পরিচালনার জন্য আলাদা বরাদ্দ পাবে হাসপাতালটি।
দীর্ঘ ১৩ বছর পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হলো। সর্বশেষ ২০১৩ সালে হাসপাতালটিতে শয্যা বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০টি করা হয়েছিল। এরপর সোমবার (১৩ জুলাই) ১০০ শয্যা বৃদ্ধির প্রশাসনিক অনুমোদন পেল।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ সোমবার এ–সংক্রান্ত একটি চিঠি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠিয়েছেন। এতে বলা হয়, যাবতীয় বিধিবিধান ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে প্রতিপালনের শর্তে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের লক্ষ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও বর্ধিত শয্যায় সেবা কার্যক্রম চালু করার প্রশাসনিক অনুমোদন নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল। এখানে রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকার রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু এত দিনেও সেখানে সরকারের অনুমোদিত কোনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ছিল না। তবে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা পর্ষদের অনুমোদনে সেখানে স্বল্প পরিসরে আইসিইউ সেবা নিশ্চিত করা হয়।
গত ২৬ মার্চ প্রথম আলোতে ‘রাজশাহী মেডিকেল/আইসিইউয়ের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যু’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দেশব্যাপী আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়। ২৮ মার্চ প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় ‘রাজশাহী মেডিকেলে ছোঁয়াচে হামের রোগীদের রাখা হচ্ছে সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। হামের রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনার পর হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামালকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যার আইসিইউ করার প্রস্তাব করেন।
আবু হেনা মোস্তফা কামাল অনুমোদিত আইসিইউ পেতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটিতে ইতিমধ্যে আইসিইউর ৪৬টি শয্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১২টি, বয়স্ক রোগীদের জন্য ১৬টি, শিশুদের জন্য ১২টি ও জটিল অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা রোগীদের জন্য ৬টি শয্যা সংরক্ষিত। এগুলো এখন থেকে সরকারের অনুমোদিত আইসিইউ শয্যা বলে গণ্য হবে।
এর পাশাপাশি নতুন করে আরও ৫৪টি শয্যা চালু হবে উল্লেখ করে মোস্তফা কামাল বলেন, এর মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতিদের জন্য ১৫টি, নবজাতকদের জন্য ১০টি, ক্যানসার বা অন্যান্য জটিল রোগীদের জন্য ১০টি এবং ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) রোগীদের জন্য ১৯টি শয্যা সংরক্ষিত থাকবে। এভাবে নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে ১০০ শয্যার আইসিইউ শয্যা হবে। এর আগের আইসিইউর শয্যাগুলো স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় চলত। এখন থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও বরাদ্দ করা হয়েছে। এখন জনবলকাঠামো লাগবে।