সিলেটের এই সড়ক এত গর্তে ভরা যে শান্তিমতো হাঁটাও যায় না

সিলেট শহরের কিনব্রিজ থেকে হুমায়ুন রশীদ চত্বর সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় আছে। ভাঙা স্থানে দেওয়া হয়েছে ইট। সেখানে জমছে বৃষ্টির পানি। সড়কটিতে ভোগান্তি নিয়ে চলে যানবাহন ও মানুষজন। সম্প্রতি সিলেটের কদমতলীতেছবি: আনিস মাহমুদ

সড়কজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় ইট, পাথর দেখা যাচ্ছে। খানাখন্দে জমে আছে নোংরা পানি। গাড়ি চলার পথে সেসব গর্তে চাকা পড়ে পানি ছিটাচ্ছে। এতে পথচারীদের কাপড় নোংরা হচ্ছে। খানাখন্দ এড়িয়ে যানবাহন ধীরগতিতে এঁকেবেঁকে চলছে। তৈরি হচ্ছে যানজট।

এমন দৃশ্য সিলেট নগরের গুরুত্বপূর্ণ কিনব্রিজ থেকে হুমায়ুন রশীদ চত্বর সড়কের। প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কের অন্তত ৪০ শতাংশ বেহাল অন্তত দুই বছর ধরে। অথচ সড়কটির ডানে ও বাঁ অবস্থিত সিলেট রেলস্টেশন এবং নগরের সবচেয়ে বড় বাসস্ট্যান্ড কদমতলী বাস টার্মিনাল।

গত সোমবার সরেজমিন দেখা গেছে, টার্মিনাল থেকে দেশের প্রায় সব কটি রুটেই যাত্রীবাহী বাসের চলাচল আছে। এ কারণে দূরপাল্লার বাসে চড়তে সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রী টার্মিনালে আসছেন। তবে সড়কে খানাখন্দ থাকায় সবাই অপরিসীম দুর্ভোগ সহ্য করছেন। সড়কের গর্তে জমে থাকা বৃষ্টির পানি মাড়িয়ে কাউকে কাউকে টার্মিনালে ঢুকতে দেখা যায়। বেশ আগে সংস্কারের জন্য ফেলা ইট ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন।

নগরের মধ্যে হলেও সড়টিক সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতাধীন। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী  জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা সওজ কর্তৃপক্ষকে সড়কটি সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। এ ছাড়া নগরের ভেতরে হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সড়কটি প্রয়োজনে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের মৌখিক সুপারিশও করেছি।’

► প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কের অন্তত ৪০ শতাংশ বেহাল অন্তত দুই বছর ধরে। ► এ সড়কে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন।  

সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে মনোয়ার হোসেন নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক যাত্রী স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে টার্মিনালে আসেন। তিনি হবিগঞ্জের বাস ধরবেন। টিকিট কাটার আগে বললেন, ‘টার্মিনাল-লাগোয়া প্রধান সড়কটির এমন বিধ্বস্ত অবস্থায় যাত্রীরা মাত্রাতিরিক্ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি স্থানে দিনের পর দিন এ অবস্থা জিইয়ে থাকার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’

চারজন যাত্রী ও দুজন বাসচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা–চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় সব রুটেই টার্মিনাল এলাকা থেকে যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে যায়। রেলস্টেশন থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে প্রতিদিনই একাধিক ট্রেন চলাচল করে। এ কারণে এ সড়কে গড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। এ ছাড়া সড়কের আশপাশে নগরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংকসহ নানা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান হওয়ায় আরও মানুষের চলাচল আছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে। কিন্তু এটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। 

মূলত চলতি বর্ষা মৌসুমের তুমুল বর্ষণে সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। তবে দু-এক দিনের মধ্যে জরুরি সংস্কারকাজ শুরু হবে।
খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম, সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী

পরিবহন মালিক সমিতির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টির মৌসুমে ভাঙাচোরা রাস্তার খানাখন্দে পানি জমে থাকে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে ধুলা ওড়ে। ফলে বছরজুড়ে কাদাপানি আর ধুলার উপদ্রবে যাত্রীরা নাকাল হন। মাঝেমধ্যে সড়কে ইট ফেলে জরুরি সংস্কার করা হলেও সেটা টেকসই নয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কে এত বেশি গর্ত আর ময়লা পানিতে ভরা আছে যে শান্তিমতো হাঁটাও যায় না। এতে আশপাশের দোকান ও বিপণিবিতানের ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।  

যোগাযোগ করলে সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, মূলত চলতি বর্ষা মৌসুমের তুমুল বর্ষণে সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। তবে দু-এক দিনের মধ্যে জরুরি সংস্কারকাজ শুরু হবে। এ ছাড়া বৃষ্টি কমলে দ্রুতই সড়কটি পুনর্নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।