চাঁপাইনবাবগঞ্জের সেই গ্রামে গানবাজনা নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার, ইউএনওকে মুচলেকা

গানবাজনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে মসজিদ কমিটির জারি করা নোটিশছবি: প্রথম আলো

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পোড়াগ্রামে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধ ঘোষণার ঘটনায় মসজিদ কমিটির সদস্য ও স্থানীয় মুসল্লিরা সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। তাঁরা ঘোষণা প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

আজ রোববার দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজনের কাছে লিখিতভাবে এ অঙ্গীকার করেন তাঁরা। বিষয়টি মুচলেকা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন ইউএনও।

ইউএনও মারুফ আফজাল রাজন বলেন, ‘মুচলেকায় তাঁরা উল্লেখ করেছেন, আমরা না বুঝেই নোটিশ ও আইনের কথা উল্লেখ করেছিলাম, তার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা আইন নিজ হাতে তুলে নেব না। কোনো ধরনের জোরপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করব না। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করছি।’

আরও পড়ুন

চরাঞ্চলের ইসলামপুর ইউনিয়নের পোড়াগ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা উল্লেখ করে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। গ্রামের একটি জামে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় কিছু মুসল্লি এই সিদ্ধান্ত দেন। ‘গানবাজনা বা বাদ্যযন্ত্রমুক্ত সমাজ গঠনের সিদ্ধান্ত’ শিরোনামে ওই গ্রামে একটি নোটিশ প্রচার করা হয়। এতে লেখা ছিল, ‘এতদ্বারা পোড়াগ্রামবাসীর পক্ষ হতে জানানো যাচ্ছে যে, আমরা আমাদের গ্রামের পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা এবং পারিবারিক শান্তি রক্ষার জন্য গ্রামের গণসম্মতির ভিত্তিতে শিরক, বিদ’আত, গান–বাজনা ও অপসংস্কৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম ও ক্ষতিকর হওয়ায় গ্রামের সামাজিক কল্যাণের স্বার্থে আজ থেকে আমাদের গ্রামে প্রকাশ্যে উচ্চশব্দে বাদ্যযন্ত্র বা গান–বাজনা সম্পূর্ণরূপে হারাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। এর পরেও যারা বাদ্যযন্ত্র বাজাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্ট্যাম্পে লেখা ওই নোটিশে মসজিদ কমিটি ও গ্রামবাসীর পক্ষে ৩৪ জন স্বাক্ষর করেন। নোটিশ জারির পর থেকে গ্রামে প্রকাশ্যে গানবাজনা বন্ধ ছিল বলে স্থানীয় লোকজন জানান।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ গত বৃহস্পতিবার ওই গ্রামে যায়। সেখান থেকে ‘এই গ্রামে গানবাজনা ও সকল প্রকার বাদ্যযন্ত্র সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ’ লেখা ব্যানার-ফেস্টুন এবং লিখিত নোটিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।

পোড়াগ্রাম জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রামে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধের ঘোষণার সঙ্গে মসজিদ কমিটির সকল সদস্যই ছিল, এমনটা নয়। যেমন আমি নিজেই জানি না, কখন সভা করে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিল। আজ পর্যন্ত তারা এ ব্যাপার নিয়ে আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।’