হোসনে আরা লুৎফা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। সেই আবেদনে নেত্রী সুনজর দিয়েছেন। দল থেকে তাঁকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্র নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতা আবুল কাশেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাবেক সংসদ সদস্য হোসনে আরা লুৎফাকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে আছি। আমাদের বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী এবার রংপুর সিটি নির্বাচনে জয়ী হবেন।’

এদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষ থেকে কাল শুক্রবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সেখানে দল মনোনীত প্রার্থী হোসনে আরা লুৎফা উপস্থিত থাকবেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় আছেন।

এদিকে দলের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে শহরে প্রচারণা চালিয়েছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী। তাঁদের আশা ছিল, প্রচারণায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে যেকোনো একজনকে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। কিন্তু উল্টোটা হয়েছে। যাঁকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, রংপুরে তাঁর কোনো প্রচারণা ছিল না। ছিল না কোনো পোস্টার বা বিলবোর্ড। এমনকি তাঁকে নিয়ে কোনো আলোচনাও ছিল না নগরে।

মনোনয়নবঞ্চিতদের একজন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। এতে মন খারাপ হয়েছে। কিন্তু মন খারাপ নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। নেত্রী যা করেছেন, ভালোর জন্য করেছেন।’ তিনি (তুষার) সবাইকে নৌকার পক্ষে মাঠে নামার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, মনোনয়নপ্রত্যাশী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমানের মুঠোফোনে ফোন দেওয়া হলে তিনি ধরেননি।

তৃতীয়বারের মতো রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর। আগামী ১ ডিসেম্বর বাছাই ও ৮ ডিসেম্বর প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৯ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা ১৭ দিন প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পাবেন। আগামী ২৭ ডিসেম্বর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।