চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক ফ্লাইট চালু করতে হবে: ব্যবসায়ী আলমাস শিমুল

চট্টগ্রাম কবে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে—শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেন জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল। বৈঠকের আয়োজন করে প্রথম আলো। আজ সকালে চট্টগ্রাম নগরের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতেছবি: প্রথম আলো

জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল বলেছেন, বাণিজ্যিক রাজধানী যদি চট্টগ্রামে হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও অবশ্যই চট্টগ্রামে হওয়া উচিত। সমন্বয় করা গেলে চট্টগ্রামকে সাজানোর বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।

‘চট্টগ্রাম কবে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন আলমাস শিমুল। আজ রোববার চট্টগ্রাম নগরের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউর মেঘলা হলে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে প্রথম আলো। এতে সহায়তা করছে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড, আবুল খায়ের গ্রুপ ও টিকে গ্রুপ।

আরও পড়ুন

গোলটেবিল বৈঠকে আলমাস শিমুল বলেন, ‘একসময় চট্টগ্রাম টু চিয়াংমাই টু ব্যাংককের যে ফ্লাইটটি ছিল সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। সেটি যদি আবার কোনোমতে অন্তত সপ্তাহে একটি দিনের জন্য ফিরিয়ে আনা যায়, সেটি আমাদের জন্য অনেক উপকারী হবে। তখন বিদেশি যে আমাদের বায়ার আছেন, কিংবা আমরা যাঁদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করি, চট্টগ্রামে এসে তাঁরা একদিনে ফিরে যেতে পারবেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম সিঙ্গাপুরে যে ফ্লাইট ছিল সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। আমি অনুরোধ করব আবার সেসব ফ্লাইট চালু করার জন্য।’

আলমাস শিমুল বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রণালয় আমাদের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন। যারা এই উন্নয়নের জন্য কাজ করে, তাদের সমন্বয় করা খুব কঠিন। ইতিপূর্বে দেখা গেছে, আমাদের এখানে মন্ত্রী যাঁরা আছেন, আমাদের মেয়র যাঁরা আছেন, তাঁরা যদি অন্য স্টেকহোল্ডারদের ডাকেন, তাঁরা আসেন না। তাঁরা বলেন, সেটি তাঁদের প্রটোকলে পড়ে না, যার জন্য তাঁদের সমন্বয় করা যায় না।’

আরও পড়ুন

ব্যবসায়ী আলমাস শিমুল বলেন, ‘চট্টগ্রামের গুরুত্ব বাড়াতে পারলে সবদিক থেকে আমরা লাভবান হব। কানেকটিভিটি বাড়াতে হবে। কানেকটিভিটি যদি বাড়াতে না পারি গুরুত্ব বাড়বে না। কানেকটিভিটি যদি বাড়াতে পারি সবদিক থেকে আমরা লাভবান হব। প্রথমত, যেমন এখানে দেখা যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যেটা, সেটা আগামী দুই-চার-পাঁচ বছরের মধ্যে কলাপস হয়ে যাবে। যেভাবে এটার লোড বাড়ছে আমরা তো অচল হয়ে যাব।’

এ ক্ষেত্রে অনেক কিছু করণীয় আছে জানিয়ে আলমাস শিমুল বলেন, ‘আমাদের নদীপথ, আমাদের সমুদ্রপথ আছে। আমরা নদীপথটা ব্যবহার করতে পারছি না। চট্টগ্রাম থেকে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী পরিবহনে সবকিছুই আমাদের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর নির্ভর করতে হয়। অথচ সীতাকুণ্ডে আমরা যদি একটা অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর চালু করি, চট্টগ্রাম থেকে ভোলার দূরত্ব মাত্র ৬৫ কিলোমিটার, চট্টগ্রাম থেকে বরিশালের দূরত্ব মাত্র ৮২ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম থেকে চার ভাগের এক ভাগ খরচে আমরা সেই নগরবাড়ী, আশুগঞ্জ, মাওয়া, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর থেকে শুরু করে টেকেরহাট, যেখানে যে নদীবন্দরগুলো আছে, সেখানে আমরা আমাদের পণ্যসামগ্রীগুলো পাঠাতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘একেকটা ট্রাকে আমরা ১৩ টনের বেশি বহন করতে পারি না। অথচ একটি জাহাজে করে মিনিমাম ১ হাজার ৫০০ টন থেকে ৩ হাজার টন পর্যন্ত আমরা পাঠাতে পারি।’

আকাশপথে যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলমাস শিমুল বলেন, ‘চট্টগ্রামের সঙ্গে ব্যবসা করতে প্রতিদিন অনেকেই আসেন। তাঁরা অত্যন্ত ব্যস্ত। তাঁরা প্রতিদিন, যেমন সিলেটের ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। তাঁদের সিদ্ধান্তগুলো বলতে পারেন না। রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল থেকে এক দিনে এসে এক দিনে যেতে পারেন না ব্যবসায়ীরা। এ জন্য আমি বলব যে বরিশাল টু চট্টগ্রাম, রাজশাহী টু চট্টগ্রাম, সিলেট টু চট্টগ্রাম আর তারপরে আরও যে আছে সৈয়দপুর টু চট্টগ্রাম প্রতিটি; যারা ফ্লাইট পরিচালনা করছে তাদের বাধ্য করা অন্তত প্রতিদিন একটি করে ফ্লাইট যেন এখানে পরিচালনা করে।’ আলমাস শিমুল বলেন, ‘আমরা দেখি যে যেমন মুম্বাই টু পুনে বা মুম্বাই টু আওরঙ্গবাদ, সেখানে অনেক হাই প্রাইসে টিকিট বিক্রি হয়। পক্ষান্তরে আমরা যদি কলকাতা টু আগরতলায় দেখি, সেখানে কিন্তু সরকার ভর্তুকি দেয়। সেগুলো আমরা করতে পারি, সেটা আমাদের জন্য অনেক বড় উপকার হবে।’