বিএনপির একাধিক কর্মী জানান, দীর্ঘদিন ধরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম জালালী ও সদস্যসচিব মিফতাহ সিদ্দীকির নেতৃত্বে দুটি পক্ষের মধ্যে ভেতরে-ভেতরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ অবস্থায় ২ আগস্ট মহানগর বিএনপির এক কর্মসূচিতে তাঁদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। ওই দিন আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের নেতৃত্বে উভয় পক্ষে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে।

আবদুল কাইয়ুম বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলয়ের একজন নেতা। অন্যদিকে মিফতাহ সিদ্দিকী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

নেতা–কর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম জালালী ও সদস্যসচিব মিফতাহ সিদ্দীকির নেতৃত্বে দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে।

২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। কমিটিতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব ছাড়াও ১৩ জন যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২০ জন সদস্য আছেন। কমিটি গঠনের কিছুদিন পর থেকেই বেশির ভাগ যুগ্ম আহ্বায়ক মহানগরের সদস্যসচিবকে ‘বয়সে জুনিয়র, অকর্মীবান্ধব ও একনায়কতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে বিরোধিতা করে আসছেন। এ নিয়ে দুই পক্ষে ক্রমে বিভক্তি বাড়ে।

এরই জের ধরে গত ১৮ জুলাই মহানগর বিএনপির বর্ধিত সভায় মিফতাহ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দলে ভাঙনের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক যুগ্ম আহ্বায়ক বক্তব্য দেন। এ অবস্থায় মিফতাহ ওই সভায় বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাতে বাধা দেন তাঁর বিপক্ষ বলয়ের নেতারা। এ নিয়ে সভায় হট্টগোল হয়। পরে অবশ্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর থেকেই উভয় পক্ষের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়।

মহানগর বিএনপির চলমান বিরোধ নিরসনে সভা ডাকা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিলেট মহানগর বিএনপির সর্বশেষ কমিটির সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাসিম হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘না, এমন কিছু নয়। মূলত সাংগঠনিক পর্যালোচনা বৈঠকের অংশ হিসেবেই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সভা ডাকা হয়েছে। কতটি ওয়ার্ড কমিটি হয়েছে, কবে নাগাদ এসব কমিটি গঠনের কাজ শেষ হবে, এসবই মূলত সভায় আলোচনা করা হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন