শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি বিএনপি প্রার্থী
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় সংঘর্ষে জামায়াতের নেতা রেজাউল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় শেরপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে মামলায় বিএনপির প্রার্থীকে প্রধান আসামি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা। তাঁরা মামলাটিকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করছেন।
রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। গত শুক্রবার রাতে তাঁর স্ত্রী মার্জিয়া বেগম ঝিনাইগাতী থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলেও সন্ধ্যার আগে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল নিজের নেতা-কর্মীদের নিয়ে শহরের দিকে এগোতে চাইলে প্রশাসনের বাধার মুখে পড়েন। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে গুরুতর আহত হন রেজাউল করিম। পরে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে ওই রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মিথ্যা অভিযোগে হত্যা মামলাটি হয়েছে দাবি করে ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মান্নান বলেন, ‘সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আমি নিজেই আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের সময় আমি ছিলাম না, তবু আমাকে আসামি করা হয়েছে।’
শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভিডিও ফুটেজ আছে। কে কতটুকু দায়ী—তা স্পষ্ট। এমপি প্রার্থীসহ নিরপরাধ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলা দেওয়াটা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে হয়েছে।
তবে বিএনপির নেতাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধেই মামলায় নাম দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা বলেন, ঘটনার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।