৯ সেপ্টেম্বর সকালে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার কাঁনচপাড়া গ্রামের একটি ধানখেত থেকে আশরাফুল ইসলামের (৩২) মাথা থেঁতলানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কাঁনচপাড়া গ্রামের সামছুল হকের ছেলে। উপজেলার তিলকপুর রেলস্টেশনে তাঁর ফ্লেক্সিলোডের দোকান রয়েছে।

এ ঘটনায় আশরাফুলের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ওই দিনই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এরপর গতকাল রাতে মাসুদ রানাকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের একটি পতিতালয় থেকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মাসুদ রানা তিলকপুর বাজার এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে।

ডিবির ওসি শাহেদ আল-মামুন বলেন, আশরাফুলের সঙ্গে মাসুদ রানার বন্ধুত্ব ছিল। এই সুবাদে আশরাফুলের দোকানে যাতায়াত করতেন তিনি। এভাবে আশরাফুলের বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর জেনে যান মাসুদ। ৯ সেপ্টেম্বর রাত আটটার পর দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফিরছিলেন আশরাফুল। মাসুদ রানা আগে থেকেই আশরাফুল বাড়ির পাশের রাস্তায় ওত পেতে ছিলেন। আশরাফুল সেখানে পৌঁছামাত্রই পেছন থেকে আশরাফুলের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেন মাসুদ রানা। এরপর আশরাফুল মাটিতে পড়ে গেলে ইট দিয়ে তাঁর মাথা থেঁতলে দেন। পরে সেখান থেকে ধানখেতে এনে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করেন। এরপর আশরাফুলের মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যান মাসুদ রানা।

আশরাফুলের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৬৩ হাজার টাকা নওগাঁ শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার তিনটি বিকাশে এজেন্টের দোকানে স্থানান্তর করা হয় জানিয়ে ওসি শাহেদ আল-মামুন বলেন, ওই এলাকার সিটিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। এরপর মাসুদ রানা গা ঢাকা দিয়ে গোয়ালন্দের একটি পতিতালয়ে আশ্রয় নেন। তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তার তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে গতকাল রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বিকেলে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।