সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে সাক্ষ্য দেন উখিয়ার লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা (মাঝি) আহমদুল্লাহ। তিনি বলেন, ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান স্যালভেশন আর্মি’র (আরসা) সদস্যরা লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ (এআরএসপিএইচ) কার্যালয়ে ঢুকে মুহিবুল্লাহর কাছাকাছি অবস্থান নেন। তখন মুহিবুল্লাহ প্রত্যাবাসন নিয়ে সাধারণ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় অস্ত্রধারী একজন মুহিবুল্লাহ দিকে অস্ত্র তাক করে বলে, ‘মুহিবুল্লাহ ওঠ।’ তিনি উঠে দাঁড়াতেই প্রথমে তাঁর বুকে একজন সন্ত্রাসী একটি গুলি করে। এরপর আরও তিনটি গুলি করে সন্ত্রাসীরা আশ্রয়শিবিরে আত্মগোপন করে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় মুহিবুল্লাহকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি আদালতকে জানান।

দুপুরে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় আরেক রোহিঙ্গা নেতা কাশেম মিয়ার। তিনিও একই কথা তুলে ধরেন। কাশেম মিয়া বলেন, মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের প্রিয় নেতা ছিলেন। তিনি রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে জন্মভূমিতে (রাখাইন) ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন। প্রত্যাবাসনবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সেটা সহ্য হয়নি। তারা এ থেকে বিরত থাকতে মুহিবুল্লাহকে কয়েকবার প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছিল।

সরকারি কৌঁসুলি ফরিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আজ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার আরও দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। মামলার মোট সাক্ষী ৩৮ জন। ১৫ নভেম্বর আরও কয়েকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

এর আগে সকালে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে মামলার ১৪ আসামিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় আসামিদের উপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মান্নান।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ার লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের ডি ব্লকে এআরএসপিএইচ কার্যালয়ে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন মুহিবুল্লাহ। তিনি ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান ছিলেন। এ ঘটনায় মুহিবুল্লাহর ভাই হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৩ জুন কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরসার ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী সালাহ উদ্দিন। ১১ সেপ্টেম্বর ২৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত।

পুলিশ জানায়, নিহত মুহিবুল্লাহর স্ত্রী, সন্তান ও ভাইয়ের পরিবারসহ দুই দফায় ২৫ সদস্যকে কানাডায় স্থানান্তর করা হয়েছে। মামলার বাদী হাবিবুল্লাহ পুলিশি নিরাপত্তায় আছেন।