কাপ্তাই হ্রদে নৌ দুর্ঘটনা কী কারণে, তদন্তের নির্দেশ দিলেন আদালত

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পর্যটকবাহী একটি নৌযান উল্টে যায়। ২৫ ডিসেম্বর বিকেলেছবি: ভিডিও থেকে

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে দুর্ঘটনা কী কারণে ঘটছে তা তদন্তে নৌ পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার জেলার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ আলম চৌধুরীর আদালত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। গত ২৫ ডিসেম্বর পর্যটক নিয়ে নৌকাডুবির ঘটনার পর প্রথম আলোসহ তিনটি সংবাদমাধ্যমের খবরের সূত্র ধরে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথম আলোর অনলাইনে ‘কাপ্তাই হ্রদে পর্যটক নিয়ে চলে দেড় শতাধিক অবৈধ নৌযান, ঘটছে দুর্ঘটনা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। আদালতের আদেশে এ সংবাদের সূত্র ধরে বলা হয়, বিপুলসংখ্যক পর্যটকের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যটন রিসোর্টগুলোর মধ্যে চরম উদাসীনতা ও গাফিলতির চিত্র দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের অবহেলা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত জীবন রক্ষার অধিকারের পরিপন্থী।

আরও পড়ুন

আদালত বলেন, নৌ দুর্ঘটনায় একটি সাধারণ সূত্র স্পষ্ট। সেটি হলো লাইফ জ্যাকেটের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি। রিসোর্ট মালিক, নৌযান মালিক ও পরিচালকেরা পর্যটকদের জীবন ও নিরাপত্তার প্রতি চরম উদাসীনতা ও অবহেলা প্রদর্শন করছেন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, নৌ পুলিশ এবং টুরিস্ট পুলিশ কাপ্তাই হ্রদে নিয়মিত মনিটরিং ও পরিদর্শন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা অত্যন্ত প্রবল।

এসব বিষয় বিবেচনায় আদালত সাতটি বিষয়ে তদন্ত করতে নৌ পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো, ২৫ ডিসেম্বরের নৌ দুর্ঘটনায় নৌকার মালিক ও চালকের অবহেলা ছিল কি না, নৌকার বৈধ রেজিস্ট্রেশন অথবা লাইসেন্স ছিল কি না, নৌকায় ১৯ জন যাত্রীর জন্য পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও অন্যান্য নিরাপত্তাসরঞ্জাম ছিল কি না, যাত্রীর সংখ্যা নৌকার নির্ধারিত ধারণক্ষমতার মধ্যে ছিল কি না, চালক প্রশিক্ষিত ও বৈধ লাইসেন্সধারী ছিলেন কি না, চালকের অদক্ষতা বা অসাবধানতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না এবং কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারী কতটি নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত নৌযান রয়েছে।

আদালতের আদেশের বিষয়টি রাঙামাটি কোর্ট পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক তাজউদ্দিন প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘নৌ দুর্ঘটনা ও পর্যটকডুবির ঘটনায় আদালত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’