গত বছরের ৪ জুন রাতে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের শুরুতেই সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বেই কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ১৫ জনের একদল ফায়ার সার্ভিস সদস্য আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেন। কিছুক্ষণ পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেয় সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট। আগুন নেভানোর কাজ চলাকালে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৫০ জন নিহত হন। আহত হন প্রায় দুই শতাধিক। বিস্ফোরণে কুমিরা ও সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ১৩ জন সদস্য নিহত হন। আরও ১৯ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য কমবেশি আহত হন।

সেদিনের স্মৃতিচারণ করে সুলতান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি বিস্ফোরিত কন্টেইনারের কাছেই ছিলেন। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পানির প্রবাহ আরও বাড়ানোর দরকার হয়। তাই তিনি কিছুটা দূরে থাকা পানির গাড়ির কাছে আসেন। এরই মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটে যায়।

সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘হঠাৎ বিস্ফোরণে খুব সম্ভবত উত্তপ্ত লোহার টুকরা ছিটকে এসে আমার ডান হাতে আঘাত করে। এ ছাড়া ছোট ছোট টুকরা গলা, পাঁজর ও ডান পায়ে আঘাত করে। হাতের হাড় ভেঙে গেছে। এ সময় শব্দে কান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেমিক্যালের প্রভাবে চোখ ও মুখ আক্রান্ত হয়। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে আমার কাছে মনে হচ্ছিল, হাত নেই, কোনো ব্যথা পাচ্ছিলাম না। তখন হাত থেকে রক্ত ঝরছে কিন্তু অবশ হয়ে গেছে। কারা এসে কখন গাড়িতে তুলেছিল তা আর মনে নেই।’

আহত হওয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা নেন সুলতান মাহমুদ। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসকের কাছে গেলে শারীরিক অবস্থা দেখে সুস্থতার সনদ দেন। তবে ডান হাতে ভারী বস্তু তুলতে নিষেধ করেছেন। এ ছাড়া সম্ভাব্য আঘাত থেকে ডান হাতকে নিরাপদ রাখতে বলেছেন। শুক্র ও শনিবার সরকারি বন্ধ হওয়ায় তিনি কাল সকালে কাজে যোগ দেবেন।

বিস্ফোরণে কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের আহত ১৯ জনের মধ্যে গাড়িচালক চাঁন মিয়া ছাড়া সবাই সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। সুলতান মাহমুদ বলেন, চাঁন মিয়ার বাঁ চোখ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো তিনি ওই চোখে দেখতে পান না। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তা ছাড়া উত্তপ্ত লোহা তাঁর পায়ের মাংসপেশিতে ঢুকে ছিল। সেই ক্ষত মোটামুটি শুকিয়েছে।