ইমনের মেডিকেলে পড়ার বাধা কেটেছে, আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সোনালী ব্যাংক

চায়ের দোকানে বাবা আবদুল আজিজের পাশে মো. ইমন আলী। শনিবার দুপুরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ধোপাপাড়া বাজারেছবি: প্রথম আলো

মেডিকেল কলেজে ভর্তির ফল প্রকাশের পর ইমন আলী ও তাঁর পরিবারের আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। তবে দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা ছিল মেডিকেলে পড়ার খরচ আসবে কোথা থেকে? তবে সেসব বাধা কেটে গেছে। ইমন আলীর পাশে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি।

ইমন আলী (২০) রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে। তিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধাক্রমে ৬৮৬তম হয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

ধোপাপাড়া বাজারে আবদুল আজিজের ছোট্ট চায়ের দোকান। লেখাপড়ার ফাঁকে বাবাকে সহযোগিতা করেন ইমন। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর মেডিকেলে পড়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল অর্থ। তবে সেই অনিশ্চয়তার গল্প প্রথম আলোয় প্রকাশের পর বদলে যায় দৃশ্যপট। পাশে দাঁড়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি।

এই অনিশ্চয়তা নিয়ে ৫ জানুয়ারি প্রথম আলোর অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত হয় ‘বাবার চায়ের দোকান, ছেলের মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ—আনন্দের পাশে অনিশ্চয়তা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন। প্রতিবেদনটি নজরে আসে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। এরপরই ইমনের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

সোনালী ব্যাংকের পুঠিয়া শাখার কর্মকর্তারা ইমনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইমনের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে সেই হিসাবে এককালীন ৫০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মেডিকেল শিক্ষাজীবনের পুরো সময়ে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংকটি।

সোনালী ব্যাংকের হেড অফিসের পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবরটি আমাদের পরিচালনা পর্ষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল থেকে ইমনের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁকে ইতিমধ্যে এককালীন অর্থ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুরো মেডিকেলে পড়াকালে তাঁকে মাসে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

এ খবর পেয়ে ইমন বলেন, ‘প্রথম আলোর সংবাদের মাধ্যমেই সোনালী ব্যাংক আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারব। আমি একজন মানবিক চিকিৎসক হতে চাই, গরিব মানুষের চিকিৎসা করতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

আরও পড়ুন

ইমনের শৈশব কেটেছে বাবার সেই চায়ের দোকানেই। পড়াশোনার ফাঁকে কখনো চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়েছেন, কখনো সামলেছেন ক্যাশ বাক্স। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস সেই দোকান। জমিজমা নেই, আছে শুধু বসতভিটা।

ধোপাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ধোপাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ইমন উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ থেকে। কলেজে ভর্তি, কোচিং, মেসভাড়া—সব খরচই এসেছে বাবার চায়ের দোকানের আয় আর ধারদেনা থেকে।

ইমন বলেন, ‘ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি করানোর সময় আব্বা ঋণ করেছিলেন। অনেক সময় ঠিকমতো খেতেও পারিনি। কলা আর রুটি খেয়েও দিন গেছে। কিন্তু আব্বা কখনো হাল ছাড়েননি। আমিও ছাড়িনি।’