বিএনপির গণসমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা–বরিশাল সড়কে ফরিদপুর শহরের মুন্সিবাজার এবং ফরিদপুর–চরভদ্রাসন সড়কের গজারিয়াতেও পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। এসব এলাকা দিয়ে আসা প্রতিটি মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাহেন্দ্র, অটোরিকশা তল্লাশি করছেন পুলিশ সদস্যরা।

ফরিদপুর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক তুহিন লস্কর প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশে ফরিদপুরে পাঁচ দিনব্যাপী সড়কে বিভিন্ন যানবাহন তল্লাশির জন্য একটি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশিচৌকি বসিয়ে গাড়িগুলো তল্লাশি করা হচ্ছে। ফরিদপুর সদর উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলাতেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ তল্লাশিচৌকি বসিয়েছে বলে জানান তিনি।

বাহির দিয়া সেতু এলাকা দিয়ে ফরিদপুর সদরের নিজ বাড়িতে আসছিলেন মো. মাহবুব হোসেন (২৯)। তিনি বলেন, বাহির দিয়া তল্লাশিচৌকিতে তাঁর মোটরসাইকেল থামানো হয়। তিনি বিএনপির গণসমাবেশের দিকে যাচ্ছেন না, নিজ বাড়িতে যাচ্ছেন—এ কথা বলার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল রহমানের গাড়িচালক আলমগীর হোসেন (২৬) বলেন, নগরকান্দার জয় বাংলার মোড়ে পুলিশ তাঁর গাড়ি থামায়। তিনি ওই মোড় দিয়ে ফরিদপুরে আসতে চাইলে পুলিশ আজ ফরিদপুরের দিকে যাওয়া যাবে না বলে জানান। তখন তিনি বাড়ি ফরিদপুরে এবং বাড়িতে যাচ্ছেন বলার পর গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক তুহিন লস্কর বলেন, এ তল্লাশির উদ্দেশ্য হচ্ছে কোনো অস্ত্রধারী ব্যক্তি, কোনো সন্ত্রাসী ব্যক্তি, কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি যাতে শহরে প্রবেশ করতে না পারেন। তাঁদের চিহ্নিত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জন্যই আজ সকাল ছয়টা থেকে সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন ধরনের যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। তবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোনো আটক বা গ্রেপ্তার নেই বলে জানান তিনি।