এর আগে মেয়ের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে খন্দকাল শফিকুল আজম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘কিছুদিন ধরে লাবণী ও তাঁর স্বামীর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির কারণে দ্বন্দ্ব লেগে ছিল। এ কারণে একে অপরকে এড়িয়ে চলছিল। স্বামী-স্ত্রীর এই দ্বন্দ্বে সে আত্মহত্যা করেছে। সে এর ১৫ দিন আগে ও সপ্তাহখানেক আগে দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।’

গত বুধবার রাতে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের সারঙ্গদিয়া গ্রামে নানাবাড়ি থেকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) এডিসি খন্দকার লাবণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি বিসিএস পুলিশের ৩০তম ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। ১৭ জুলাই সাত দিনের ছুটি নিয়ে তিনি কর্মস্থল খুলনা থেকে গ্রামের বাড়ি মাগুরায় বেড়াতে যান। তাঁর স্বামী তারেক আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে কর্মরত। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে এখন ভারতে চিকিৎসাধীন।

নিজ বাড়িতে মাহমুদুলের দাফন

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মাগুরা পুলিশ লাইনসে নিজের নামে ইস্যু করা অস্ত্রের গুলিতে ‘আত্মহত্যা’ করা কনস্টেবল মাহমুদুল হাসানেরও (২৩) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিপুলবাড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন হয়।
মাহমুদুলের পারিবারিক সূত্র বলছে, কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন মাহমুদুল। কলেজে লেখাপড়া করা অবস্থায় প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে যোগ দেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম গতকাল দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, কনস্টেবল মাহমুদুল দেড় মাস আগে মাগুরায় বদলি হন। এর আগে তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি খন্দকার লাবণীর দেহরক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুটি ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এটুকু নিশ্চিত, দুজনেই আত্মহত্যা করেছেন। দুজনের আত্মহত্যার কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন