৫ নভেম্বর বরিশালে বিএনপির গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগী দোকানিদের দাবি, ওই সমাবেশে যাওয়ায় আগৈলঝাড়া ও গৌরনদীর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা তাঁদের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কার্তিক ব্যাপারী বলেন, ‘বাকাল ইউপির চেয়ারম্যান ও আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বিপুল চন্দ্র দাস আজ সকালে আমার বাড়িতে এসে আমার দোকানের চাবি দিয়ে দেন এবং নির্ভয়ে দোকান খুলতে বলেন। আমি নতুন করে দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেছি।’

বাগধা ইউনিয়নের বাগধা বাজারের ব্যবসায়ী মিল্লাত হোসেন বলেন, বাগধা ইউপির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা এসে দোকানের চাবি দিয়ে তাঁকে দোকান খুলতে বলেছেন। একই বাজারের ব্যবসায়ী গোলাম মকিদ, ফরিদ হোসেন, আল আমিন হাওলাদার ও হাফিজ সরদার একই কথা বলেন।

দোকানের তালা খুলে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরেক ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, ৯ নভেম্বর রাতে বাগধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইউনুস মিয়ার নেতৃত্বে ১০–১২ জন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা তাঁর ওয়ার্কশপে হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর ওয়ার্কশপে তালা ঝুলিয়ে একটি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে যান। আজ সকালে হামলাকারী ওই নেতারা আবার তাঁর ওয়ার্কশপ খুলে দিয়েছেন। পরে আগৈলঝাড়া থানা–পুলিশ ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করে তাঁকে ফেরত দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের দোকান খোলা হয়নি। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেন। ওই আবেদনে বাগধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম বক্তিয়ার, ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা মনির বক্তিয়ার, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা এসকেন খান, তাঁর ছেলে ফয়সাল খান, ভাই বাবুল খান ও আলগমীর মোল্লাকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। এ ছাড়া তিনি একই বিষয়ে বরিশাল পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতারা সব দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছেন। তবে আমি মামলা করায় আওয়ামী লীগের নেতারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রেখেছেন।’
এ ছাড়া ডিএইচবি হাটের আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. হাফিজ সিকদারের দোকান ও বাকাল ইউনিয়নে ভোরের আলো সমিতি নামের একটি এনজিও বন্ধ রয়েছে।

দোকানের তালা খুলে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, ‘গৈলা ইউপির  চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. সফিকুল ইসলাম আমাকে কার্তিকের দোকানের চাবি দিয়ে দোকান খুলে দিতে বললে আমি কার্তিককে চাবি দিয়ে দিই। কার নির্দেশে কিংবা কেন তালা খুলে দেওয়া হলো, সে সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।’

আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাজাহারুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা আজ প্রায় সব দোকান খুলে দিয়েছেন। ব্যবসায়ী আকরামের মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করে তাঁর কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের মামলার আবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো আদালতের নির্দেশনা হাতে পাইনি। নির্দেশনা পেলে সে মোতাবেক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’