রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ধ্বংসাবশেষে ‘পাবলিক টয়লেট’ লেখা ব্যানার রাতেই উধাও

বাঁশের খুঁটি পুঁতে ওই স্থানে ব্যানার টানিয়ে প্রতীকীভাবে পাবলিক টয়লেট উদ্বোধনের ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবারছবি: প্রথম আলো

রাজশাহী মহানগরের কুমারপাড়া এলাকায় গুঁড়িয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ধ্বংসাবশেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে টানানো ‘পাবলিক টয়লেট’ লেখা ব্যানারটি রাতের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যানারটি টানানো হয়েছিল। তবে কে বা কারা এটি সরিয়ে নিয়েছে, তা জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঁশের খুঁটি পুঁতে ওই স্থানে ব্যানার টানিয়ে প্রতীকীভাবে ‘পাবলিক টয়লেট’ উদ্বোধনের ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির রাজশাহী জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. নাহিদুল ইসলাম। এ সময় সংগঠনের আরও দুজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু রাতের মধ্যেই ব্যানারটি সেখানে আর দেখা যায়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই দাবি করেছেন, সমালোচনার মুখেই হয়তো ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. নাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যানার সরাইনি। কে বা কারা এটি সরিয়ে নিয়েছে, তা জানি না। বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার বিষয়টি ভাবছি। যেহেতু আমরা সেখানে পাবলিক টয়লেটের ব্যানার দিয়েছি, বিষয়টি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আগামী রোববার বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

সমালোচনার ব্যাপারে নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহীর ব্যানারে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের গুঁড়িয়ে দেওয়া প্রধান কার্যালয়ে মুজিব পাবলিক টয়লেট সাইনবোর্ড দিয়ে প্রতীকী উদ্বোধন করেছি। এখন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মুঠোফোনে একের পর এক হুমকি দিচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এটা কোনো অপরাধ বলে মনে করি না, এটা বিরোধী মনোভাবের প্রকাশ বলেই আমি মনে করি।’

আরও পড়ুন

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে কুমারপাড়া এলাকায় ভাঙা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজশাহী মহানগর শাখা কার্যালয় শুভ উদ্বোধন করা হলো’ লেখা একটি ব্যানার দেখা যায়। রাতের আঁধারে কে বা কারা ব্যানারটি টানিয়ে যায়, তা জানা যায়নি। সেদিন বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে এলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দুপুরের দিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা সেখানে গিয়ে ব্যানারটি টেনে ছিঁড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। এতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির রাজশাহী মহানগর কমিটির বোয়ালিয়া পশ্চিমের সভাপতি শামসুল আলম (মিলু)।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. নাহিদুল ইসলাম ব্যানার টানানোর পর সাংবাদিকদের বলেন, এত জুলুম-নির্যাতনের পরও আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার আবারও বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিক হওয়ার চেষ্টা করছে। অথচ গত ১৭ বছরে তাঁরা জনগণকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছে। সেই সন্ত্রাসীদের আঁতুড়ঘর আবার উদ্বোধন করে প্রাসঙ্গিক হওয়ার চেষ্টা হতে দেওয়া যাবে না। তাই জায়গাটিকে শেখ মুজিবের নামে পাবলিক টয়লেট হিসেবে প্রতীকী উদ্বোধন করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের দিন থেকে কয়েক দফায় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ওই কার্যালয়টি। বর্তমানে সেখানে ভাঙা ভবনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে।