তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের বিরোধের কারণে এবারও বিশ্ব ইজতেমা হচ্ছে আলাদাভাবে। প্রথম পক্ষ বা বাংলাদেশি মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা ইজতেমা পালন করেন ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি। গত শুক্রবার থেকে শুরু হয় দ্বিতীয় পক্ষ বা মাওলানা সাদ কান্ধলভী অনুসারীদের ইজতেমা। আজ আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে এবারের ইজতেমা।

আজ সকাল ৮টায় মুঠোফোনে কথা হলো সাদ অনুসারীদের গণমাধ্যম সমন্বয়কারী মো. সায়েমের সঙ্গে। তিনি বলেন, সকালে ফজরের নামাজের পর আমবয়ান করেন ভারতের মো. মুরসালিন। ইজতেমা থেকে বাড়িতে যাওয়ার পর মুসল্লিরা কী কাজ করবেন বা আমল কী হবে, তা নিয়ে বয়ান করেন তিনি। তাঁর বয়ান বাংলায় তরজমা করেন মাওলানা মোশারফ হোসেন। এরপর হেদায়েতি বয়ান শুরু করবেন মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী। শেষে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ করবেন এবারের ইজতেমা।

মো. সায়েম বলেন, ‘বিরোধের মুখে মাওলানা সাদ কান্ধলভী সাহেব আসতে না পারায় তাঁর তিন ছেলে এবার ইজতেমায় এসেছেন। তাঁর বড় ছেলে গত শুক্রবার জুমার নামাজ পড়িয়েছেন। আর আজ করবেন মোনাজাত। তাঁকে পেয়ে আমরা সবাই খুশি।’

এদিকে ইজতেমার মোনাজাত উপলক্ষে গতকাল শনিবার মধ্য রাত থেকে গাজীপুরের তিন সড়কে বন্ধ রাখা হয়েছে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল। এর মাঝে আজ মোনাজাতের সময় লোকজন বেশি হলে বা রাস্তায় বসে পড়লে এই তিন সড়কেই বন্ধ করে দেওয়া হবে সব যান চলাচল। সড়ক তিনটি হলো ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে রাজধানীর আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত, টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কের মীরের বাজার থেকে টঙ্গীর স্টেশন রোড পর্যন্ত এবং রাজধানী ঢাকার কামারপাড়া থেকে টঙ্গীর স্টেশন রোড পর্যন্ত।

গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপকমিশনার মো. আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মোনাজাতকে ঘিরে আমরা গত রাত (শনিবার) থেকে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখেছি। আর আজ যতক্ষণ সম্ভব এই তিন সড়কে অন্যান্য যান চলাচল সচল থাকবে। তবে যখনই মানুষজন রাস্তায় বসে পড়বেন বা মাঠে সংকুলান হবে না, তখন অন্যান্য যান চলাচলও মোনাজাতের সময় বন্ধ করে দেওয়া হবে। মোনাজাত শেষে মানুষের ভিড় কমামাত্রই সড়ক আবার স্বাভাবিক হবে।’