কুষ্টিয়ার মাদ্রাসার সেই শিশুশিক্ষার্থীর ঈদ কাটল আইসিইউতে
নির্যাতনের শিকার কুষ্টিয়ার মাদ্রাসার সেই শিশুশিক্ষার্থীর (১০) ঈদ কেটেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ)। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করার আলামত পেয়েছেন চিকিৎসকেরা।
এর মধ্যে এক দিনের জন্য শিশুটিকে আইসিইউ থেকে ওসিসিতে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হয়। দ্রুত তাকে আবার আইসিইউতে ফিরিয়ে আনা হয়। আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, শিশুটির বুকেও বড় আঘাত রয়েছে, যে জন্য তার কাশির সঙ্গে রক্ত বের হচ্ছিল। তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। এরপর কাশির সঙ্গে রক্ত আসা বন্ধ হয়েছে, কিন্তু তার স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগবে। তার চেতনা আছে। পাশে দাঁড়িয়ে তার বিষয়ে কথা বললেই সে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কেঁপে উঠছে।
আজ রোববার দুপুরে শিশুটির বাবা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মেয়ের শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। গায়ে জ্বর। রাতে মাথায় পানি দেওয়ার জন্য তার মাকে ভেতরে ডেকে নেওয়া হয়। এ কথা শোনার পর আইসিইউ ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিশুটির জ্বরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শিশুটির মা বলেন, কয়েক দিন থেকেই তাঁর মেয়ের জ্বর আসছে। রাতে অনেক জ্বর ছিল। এ জন্য মাথায় পানি দিতে হয়েছে। গা মুছে দিতে হয়েছে। শিশুটি ঘুমাতে পারছিল না।
সংকটাপন্ন অবস্থায় ১৬ মার্চ সকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার একটি মাদ্রাসার ওই শিশুশিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটি কিছুক্ষণ পরপর আতঙ্কে কেঁপে কেঁপে উঠছিল। অবস্থার অবনতি হলে শিশুটিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা ভেড়ামাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় মাদ্রাসার পরিচালক, সহযোগী হিসেবে তাঁর স্ত্রী ও একজন নারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।