পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় এক কৃষক ওই বাগানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাঁর চিৎকারে আশপাশে থাকা কৃষকেরা সেখানে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) কল দিলে বেলা দেড়টার দিকে রায়পুরা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

কলাবাগানের ভেতরে ১৫ হাত দূরত্বে ওই দুই ব্যক্তির লাশ পড়ে ছিল। নিহত দুজনের মাথাসহ মুখমণ্ডলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশের পাশে পাওয়া যায় একটি দড়ি ও কিছু টাকা। পরে পুলিশ লাশ দুটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত দ্বীন ইসলামের স্ত্রী শাহিদা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক গন্ডা জমিতে আমাদের ঘর। ঘরটিতে এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে আমরা থাকি। তিনি (স্বামী) কিছুই করতেন না, তবে নিয়মিত জুয়া খেলতেন। রোববার বিকেলে তাঁর মুঠোফোনে একটি কল আসে। ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার পরই তিনি “বাজারে যাই” বলে বেরিয়ে যান। ওই রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি। অনেকবার কল দিয়ে মুঠোফোন বন্ধ পাচ্ছিলাম। গতকাল দিনভর তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি। পরে কলাবাগান থেকে দুজনের লাশ পাওয়া গেছে শুনে আজ সকালে রায়পুরা থানায় যাই। সেখানে গিয়ে পরনের কাপড় ও ছবি দেখে লাশ শনাক্ত করি।’ শাহিদা বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, জুয়া খেলার কথা বলে ডেকে নিয়ে সঙ্গের লোকজনই তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।’

কাকে সন্দেহ করছেন জানতে চাইলে শাহিদা বেগম বলেন, ‘আমি আন্দাজে কাকে সন্দেহ করব? কই গেছে, কার সঙ্গে গেছে, কে ডেকে নিয়েছে, কিছুই তো জানি না। পুলিশকেই তাদের খুঁজে বের করতে হবে।’

নিহত আলী হোসেনের স্ত্রী রেনু বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিনি (স্বামী) দিনমজুর ছিলেন এবং দুই সংসারে তাঁর পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে আছে। প্রায়ই তিনি সুযোগ পেলে জুয়া খেলতেন। রোববার বিকেলে তাঁর মুঠোফোনে কল করে কেউ তাঁকে যেতে বলেন। ওই কল পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে যান। কোথায় যাচ্ছেন, তা–ও বলে যাননি। রাতে বাড়ি না ফেরায় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করা হয়। পরে গতকাল রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি আমাকে দেখান স্বজনেরা। পরে রাতে থানায় গিয়ে স্বামীর লাশ শনাক্ত করি।’

রেনু আরও বলেন, ‘জুয়া খেলা নিয়ে কারও সঙ্গে তাঁর হয়তো দ্বন্দ্ব চলছিল। হয়তো ওই দ্বন্দ্বের জেরে তাঁকে ডেকে নিয়ে ওই কলাবাগানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কে বা কারা আমার স্বামীকে এত নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান বেলা একটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, নিহত দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। আজ দিনের মধ্যেই তাঁদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কারা এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এর সঙ্গে জুয়া খেলার বিষয়টি সম্পর্কিত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ওসি আরও বলেন, ‘এই জোড়া খুনের ঘটনায় এখনো কোনো পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা লিখিত অভিযোগ পাইনি। দুই পরিবারের সদস্যরা আমাদের জানিয়েছেন, লাশ হস্তান্তরের পর দাফন শেষে তাঁরা মামলা করতে আসবেন।’