পুলিশ ক্যাম্পের ভবনমালিককে গুলির পর অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার তালিকাভুক্ত নৌ ডাকাত নয়নের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রছবি: সেনাবাহিনীর সৌজন্যে

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের জন্য ভবন ভাড়া দেওয়ায় মালিককে গুলি করার ঘটনায় অভিযুক্ত নৌ ডাকাত (তালিকাভুক্ত) নয়নের ছেলের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। এ সময় ওই বাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গতকাল শুক্রবার রাত থেকে আজ শনিবার ভোর পর্যন্ত গুয়াগাছিয়া এলাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এ যৌথ অভিযান চালানো হয়।

আজ সকালে গজারিয়া আর্মি ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন

এর আগে গতকাল বিকেলে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ভাড়া দেওয়ায় একই উপজেলার জামালপুর গ্রামে কাইয়ুম দেওয়ান (৪২) নামের ভবনমালিককে হাত ও পায়ে গুলি করার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় শরীফ প্রধান নামের তাঁর এক আত্মীয়ও আহত হন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, নৌ ডাকাত নয়ন ও তাঁর পক্ষের লোকজন এ হামলার জন্য দায়ী।

সেনাক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে সেনাবাহিনী। এর অংশ হিসেবে সদর দপ্তর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীন গজারিয়া আর্মি ক্যাম্প শুক্রবার রাত একটা থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত গুয়াগাছিয়া এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায়।

এ সময় পুলিশের তালিকাভুক্ত নৌ ডাকাত নয়নের ছেলে নীরবের বসতবাড়ি থেকে একটি শুটার গান, দুটি গুলি, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম এবং তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় নীরবকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রগুলো পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য গজারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র বলছে, তালিকাভুক্ত নৌ ডাকাত নয়ন ও পিয়াস গ্রুপের সঙ্গে নীরব যুক্ত এবং এলাকায় একটি কিশোর গোষ্ঠী পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযোগ আছে, তাঁরা এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রেখেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের মেঘনা নদী ও আশপাশের নদীপথে ডাকাতি, অবৈধ বালু উত্তোলন ও নৌযানে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়ন-পিয়াস ও নীরব গ্রুপ। এসব কর্মকাণ্ডের আধিপত্য ধরে রাখতে গত দেড় বছরে মেঘনা নদীতে কয়েক দফা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন নিহত হন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২২ আগস্ট জামালপুর এলাকায় অস্থায়ী একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। ২৫ আগস্ট ওই ক্যাম্পে হামলার অভিযোগ ওঠে নয়ন-পিয়াস গ্রুপের বিরুদ্ধে। এরপর জেলা পুলিশ, গজারিয়া থানা–পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানে গ্রুপটির সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। তবে সম্প্রতি তাঁরা আবার এলাকায় ফিরে ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের ভয়ে এলাকার অন্তত ৬২টি পরিবার গ্রাম ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।