রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিলবোর্ড থেকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি মুছে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল রোববার রাতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ (বিচারিক হত্যা) শিরোনামের ছবিগুলো সরানো হয়।
এর আগে গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ‘নভোকালচার’ নামে একটি সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের বিলবোর্ডটি টানানো হয়। প্ল্যাটফর্মটির পরিচালক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার।
বিলবোর্ডটি অপসারণের দাবিতে গতকাল বিকেলে একদল শিক্ষার্থী প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান সেখান থেকে ছবিগুলো মুছে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সাদেক রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের স্বাভাবিকীকরণের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসন বিলবোর্ডটি সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় তাঁরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। বিলবোর্ডটি অপসারণ না হলে পরবর্তী সময়ে কর্মসূচি দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে নভোকালচারের উদ্যোগে প্যারিস রোডে কয়েকটি বিলবোর্ড টানানো হয়। এর মধ্যে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের বিলবোর্ডে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও মীর কাসেম আলীর ছবি ছিল। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবিও ছিল। পরে বিলবোর্ড থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি মুছে দেওয়া হয়।
প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির পর রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে বিলবোর্ডটি সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। তিনি তাতে সম্মত না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপত্তিকর ছবিগুলো মুছে দেয়।
ক্যাম্পাস বা দেশের কোথাও যুদ্ধাপরাধীদের কোনো ধরনের স্বাভাবিকীকরণ মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন বা শেখ হাসিনাবিরোধী অবস্থানকে আড়াল করে যুদ্ধাপরাধী মতাদর্শ পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই।