আবদুল্লাহ আল রোমান বলেন, ‘রাত ১২টায় বুলবুলের জন্মদিনের ক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিগত বছরের জন্মদিন উদ্‌যাপনের স্মৃতি চোখে ভাসছে। আমরা গুমরে গুমরে কাঁদছি।’

গত সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে গাজী-কালু টিলা লাগোয়া ‘নিউজিল্যান্ড’ এলাকায় বুলবুল ছুরিকাহত হন। পরে তাঁকে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রাতেই সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন। পরে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন বুলবুল। তাঁর বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার নন্দীপাড়া গ্রামে।

বুলবুলের সহপাঠীরা জানান, গত দুই বছর করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তাঁর জন্মদিন সশরীরে সহপাঠীরা উদ্‌যাপন করতে পারেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁরা বন্ধুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। আজ সেসব মেমোরিতে দেখাচ্ছে। বুলবুলের শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তাঁর জন্মদিনের মুহূর্তটি সামনে আসায় সহপাঠীরা আরও বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন।

default-image

শাহপরান হলের যে কক্ষে বুলবুল থাকতেন, আজ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, কক্ষে থাকা অপর পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন বাইরে আছেন। অন্য তিনজন কক্ষে বিমর্ষ হয়ে বসে আছেন। বুলবুলের চৌকিতে তোশক গুটানো, সেখানে আছে কিছু ব্যাগ ও টেবিলল্যাম্প। চৌকির পাশেই তাঁর টেবিল ফ্যানটি পড়ে আছে। একপাশে মশারিও অর্ধটানানো অবস্থায় আছে। এ ছাড়া পড়ার টেবিলে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে বইপুস্তক।

বুলবুলের বিভাগ ও হলের সহপাঠীরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতির পর সশরীর ক্লাস শুরু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় চিরচেনা চেহারায় ফিরেছে। দুই বছর পর বুলবুলের জন্মদিনটি সামনে থাকায় তাঁরা সেটি ঘটা করে পালন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এর আগেই বুলবুল চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

লোক প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও বুলবুলের সহপাঠী আবু বকর বলেন, ‘সর্বশেষ ২০১৯ সালে সশরীর আমরা বুলবুলের জন্মদিন পালন করেছিলাম। ঘনিষ্ঠ সহপাঠীরা মিলে সেদিন বুলবুলকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এবং নিউজিল্যান্ড এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছি, খেয়েছি। রাতে শাহপরান হলের সামনে তাঁর জন্মদিনের কেকও কাটা হয়েছিল। পরের দুই বছর করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তা করা হয়নি। এবার তাঁর জন্মদিনে আবারও আমাদের আনন্দে-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু তিন দিন আগে তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সব আনন্দ শেষ হয়ে গেল।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন