সংবাদ সম্মেলনে মো. আজবাহার আলী শেখ বলেন, এটি একটি পরিপূর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা। বিকেল চারটা থেকে ওই টিলায় চারজন অবস্থান করছিলেন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দুজন চলে যান। সন্ধ্যার পর কামরুল টিলায় আসেন। শিক্ষার্থী বুলবুল ও তাঁর সঙ্গে এক ছাত্রী ওই টিলায় সেদিন ঘুরতে যান। তাঁদের একাকী পেয়ে মুঠোফোন ও টাকাপয়সা দাবি করেন ওই তিনজন (গ্রেপ্তার তিনজন)।

উপকমিশনার আজবাহার আলী আরও বলেন, ছিনতাইকালে বুলবুলের সঙ্গে ওদের ধাক্কাধাক্কি, ধস্তাধস্তি হয়। বুলবুলের শরীরে এর চিহ্নও রয়েছে। এটি ছিল নিছক একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। তবে ওই ছাত্রীর মুঠোফোন কিংবা বুলবুলের মানিব্যাগ খোয়া যায়নি। শুধু বুলবুলের মুঠোফোন খোয়া গিয়েছিল।

ছিনতাইকারীরা মুঠোফোন নিলেও মানিব্যাগ না নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মো. আজবাহার আলী শেখ বলেন, এ কথা গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞেস করা হলে তাঁরা জানান, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকালে তাঁরা ছুরিকাঘাত করেন। তাঁদের বয়স কম, তাই রক্ত দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ছিটকে তিনজন তিন দিকে চলে যান।

default-image

গ্রেপ্তার তিনজন পেশাদার ছিনতাইকারী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের উপকমিশনার বলেন, ‘তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আমরা পাইনি। তাই তাঁদের এই মুহূর্তে পেশাদার ছিনতাইকারী বলতে পারছি না। তবে তদন্ত চলছে, তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত এগোতে পারব।’

বুলবুলের সঙ্গে থাকা ছাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘ওই ছাত্রীর কললিস্ট ও মুঠোফোন আমরা পরীক্ষা করেছি। সেখানে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মূলত ছিনতাইয়ের কারণেই হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে।

গ্রেপ্তার তিনজন ছাড়া আর কেউ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এই তিনজনের সম্পৃক্ততা আমরা পেয়েছি। আপাতত আর কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।’ পুলিশের হেফাজতে থাকা অপর দুজনের এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা পাওয়া না গেলে অভিভাবকের জিম্মায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মো. আজবাহার আলী শেখ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের ওই টিলা এলাকায় আগেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ওই টিলায় অবকাশযাপনের জন্য প্রায়ই শিক্ষার্থীরা যান। বুলবুল হত্যার দিনও টিলায় অনেকেই ছিলেন। তবে বুলবুল এবং ওই ছাত্রী সেদিন একটু বেশি নির্জন এলাকায় ছিলেন। ফাঁকা পাওয়ার কারণেই তাঁরা (ছিনতাইকারীরা) আক্রমণ করতে পেরেছেন।

এর আগে গত সোম ও মঙ্গলবার তিন ছিনতাইকারীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে আবুল হোসেন (১৯) নামের একজনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. কামরুল আহমদ (২৯) ও মো. হাসান (১৯)। তাঁদের প্রত্যেকের বাড়ি টিলারগাঁও এলাকায়। কামরুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর ঘরের ভেতর থেকে আজ বেলা পৌনে ১১টার দিকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও বুলবুলের ছিনতাই হওয়া মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজী-কালু টিলা লাগোয়া এলাকা হচ্ছে টিলারগাঁও। কামরুল পেশায় রাজমিস্ত্রি। তাঁর বাবার নাম মো. গোলাব আহমদ। আবুলও রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তাঁর বাবার নাম তছির আলী (প্রয়াত)। এ ছাড়া হাসান অ্যাম্বুলেন্সের হেলপার কাম রাজমিস্ত্রি। তাঁর বাবার নাম আনিছ আলী।

আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা খান প্রথম আলোকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আবুল হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেবেন। তাঁকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাকি দুজনকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে গাজী-কালু টিলা লাগোয়া ‘নিউজিল্যান্ড’ এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন বুলবুল। এ ঘটনায় রাতেই সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন। বুলবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার নন্দীপাড়া গ্রামে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন