পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর গত সোমবার ও মঙ্গলবার তিনজন ছিনতাইকারীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। এঁদের মধ্যে আবুল হোসেন (১৯) নামের একজনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তাঁরা হচ্ছেন মো. কামরুল আহমদ (২৯) ও মো. হাসান (১৯)। তাঁদের প্রত্যেকের বাড়ি টিলারগাঁও এলাকায়। জিজ্ঞাসাবাদে কামরুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর ঘরের ভেতর থেকে ছুরি ও মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

default-image

উপপুলিশ কমিশনার মো. আজবাহার আলী শেখ বলেন, কামরুলের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ছুরি ও মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। কে ছুরিকাঘাত করেছে, কার কতটুকু সম্পৃক্ততা, সেটা আরও ব্যাপকভাবে অনুসন্ধান করে বের করা হবে। কী উদ্দেশে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে, কারা কেন করেছে, আরও কেউ জড়িত আছে কি না, এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

মো. আজবাহার আলী শেখ আরও বলেন, সব মিলিয়ে এখন পাঁচজন পুলিশ হেফাজতে আছেন। এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান আছে, সার্বিক তদন্ত শেষে যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হবে, তাঁদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এই মুহূর্তে তাই গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যা বলা যাচ্ছে না।

টিলারগাঁও এলাকার বাসিন্দা ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজী-কালু টিলার একেবারে লাগোয়া এলাকা হচ্ছে টিলারগাঁও এলাকা। কামরুল পেশায় রাজমিস্ত্রি। প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি এ পেশায় জড়িত আছেন। তাঁর বাবার নাম মো. গোলাব আহমদ। কামরুল বিবাহিত, তাঁর তিন সন্তান আছে। আবুলও রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তাঁর বাবার নাম তছির আলী (প্রয়াত)। এ ছাড়া হাসান অ্যাম্বুলেন্সের হেলপার কাম রাজমিস্ত্রী। তাঁর বাবার নাম আনিছ আলী।

এদিকে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, বুলবুল হত্যাকাণ্ডের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা বাড়াতে এরই মধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যার পর আলোর স্বল্পতা দূর করার পাশাপাশি সব খানে সিসি ক্যামেরা লাগানো ও নিরাপত্তাপ্রহরী বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিহত বুলবুলের পরিবারকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ লাখ টাকা দেবে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক আমিনা পারভিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গত সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে গাজী-কালু টিলা লাগোয়া ‘নিউজিল্যান্ড’ এলাকায় বুলবুল ছুরিকাহত হন। পরে তাঁকে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রাত পৌনে আটটার দিকে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রাতেই সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন।

বুলবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার নন্দীপাড়া গ্রামে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলের ২১৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন। বুলবুল নিহত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা গত সোমবার রাত থেকে দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবিতে নানা ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন