নাটোরের গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকে আজ বুধবারের মধ্যেই রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত হতে বলা হয়েছে।
গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামের হত্যাকাণ্ড, সেই মামলায় নাটোর-৪ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার এবং এমপির ছেলের ঘনিষ্ঠ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাসেল হোসাইনের শপিং মলে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার মধ্যে ওসিকে বদলি করা হলো।
একই সঙ্গে শাকিল হত্যা মামলার তদন্তভার থানা–পুলিশের কাছ থেকে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদের সই করা এক অফিস আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আবদুল হান্নানকে ‘জনস্বার্থে’ রেঞ্জ ডিআইজি রাজশাহী কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলো।
আবদুল হান্নান ডিআইজির অফিস আদেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ইতিমধ্যে গুরুদাসপুর থানা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
শাকিল হত্যা মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মামলার তদন্তভার পরিবর্তনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে অফিস আদেশ পাননি।
ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামকে ১৪ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাঁকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
হামলার পর শাকিলের বাবা রবিউল করিম ১৯ অক্টোবর অজ্ঞাতপরিচয় ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন। হত্যার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে নূরুজ্জামানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ সোমবার রাতেই তাঁকে আটক করে। পরে গতকাল সন্ধ্যায় আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে শাকিল ইসলামের জানাজার পরপরই গতকাল রাত ১১টার দিকে উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারে রাশ মেগা মলে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দোকানের শাটার ভেঙে শত শত লোক মলের তৈরি পোশাক, প্রসাধনী ও জুতা-স্যান্ডেলের দোকানে লুটপাট করেন। পরে মলটিতে ভাঙচুর চালানো হয়। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে লুটপাট চলার পর পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়।