ওই নারী গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সৌদিপ্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী। ওই নারীর বাবার বাড়ি মনোহরদী উপজেলায়। তিনি মনোহরদীতে একটি বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শান্তা ইসলাম নামের স্থানীয় এক নারী সকালে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। মনোহরদী সরকারি কলেজের পশ্চিম দিকের সড়কে হাঁটার সময় তিনি নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো কিছু একটা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। এ সময় তিনি নিশ্চিত হন, এর ভেতর থেকেই কান্নার শব্দ আসছে। আরও লোকজন জড়ো হয়ে গেলে তাঁরা পলিথিন খুলে কাপড়ে প্যাঁচানো নবজাতককে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে মনোহরদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসকেরা নবজাতককে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই নারী দেড় বছর আগে কালিয়াকৈরের ওই ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। এটা দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে। তাঁদের দুজনেরই আগের সংসারে দুটি করে সন্তান আছে। এর মধ্যে ওই নারী তাঁর আগের সংসারের দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। আট মাস আগে ওই নারীর স্বামী সৌদি আরবে যান।

ওই নারীর দাবি, বিদেশে যাওয়ার পর থেকে স্বামীর সঙ্গে তাঁর ঝগড়া লেগে থাকত। একপর্যায়ে তাঁর স্বামী সংসারের খরচ পাঠানো বন্ধ করে দেন। এর মধ্যে গত শনিবার রাতে তিনি বাসায় স্বাভাবিকভাবে কন্যাসন্তান প্রসব করেন। সন্তান প্রসবের খবর স্বামীকে জানানোর পর স্বামী তাঁকে গালি দেন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি উপায় না পেয়ে গতকাল ভোরের দিকে মেয়েকে কলেজ-সংলগ্ন সড়কের পাশে ফেলে আসেন।

ওই নারী বলেন, ‘অভাবের কারণে আগের দুটি সন্তান নিয়েই চলতে পারছিলাম না। এখন আবার আরেক মুখ বেড়েছে। তাকে কীভাবে বড় করব, এই দুশ্চিন্তা থেকেই এমনটা করে ফেলেছিলাম। কিন্তু পরে আর সহ্য করতে না পেরে থানায় চলে আসি। এখন আমি আমার সন্তানের সঙ্গে আছি, তাকে ছাড়া আমি থাকতে পারব না।’

মনোহরদী থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ওই নারীর দাবির সত্যতা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই নারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাঁর চিকিৎসা দরকার। তাই আপাতত তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবজাতকের কাছে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।