নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় বিএনপির সংসদ সদস্যের ছেলে নূরুজ্জামানকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তিন দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে গুরুদাসপুর আমলি আদালতে হাজির করে এ আবেদন করা হয়।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেনের আমলি আদালত আবেদনটি নিয়মিত আদালতে শুনানির নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নূরুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ডিবির ওসি নজরুল ইসলাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শাকিল হত্যা মামলায় গত ২৬ অক্টোবর নূরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয় জানিয়ে ডিবির ওসি বলেন, আগের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি নূরুজ্জামান পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের জন্য আরও সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। এ কারণে আবারও সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আদালত নিয়মিত আদালতে শুনানির নির্দেশ দিয়েছেন। কাল বা পরশু শুনানি হতে পারে।
নূরুজ্জামান নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুল আজিজের বড় ছেলে। অন্যদিকে নিহত শাকিল ইসলাম ছিলেন গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এবং ওই এমপির ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামানের অনুসারী। ছাত্রদলের একাধিক সূত্র জানায়, এমপির দুই ছেলের পৃথক অনুসারী ও সমর্থক গোষ্ঠী আছে। দুই ভাইয়ের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে।
জেলা বিএনপির বিশেষ সভা
এদিকে শাকিল হত্যা মামলায় নূরুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পরপর এমপি আবদুল আজিজকে নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য গতকাল বিশেষ একটি সভা করেছে জেলা বিএনপি। সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, সদস্যসচিব আসাদুজ্জামানসহ অন্য নেতারা অংশ নেন। সভা শেষে তাঁরা জানিয়েছেন, এমপি আবদুল আজিজের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থাকবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় কমিটি।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বলেন, সভায় শহীদ শাকিল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। বিস্তারিত আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমপি আবদুল আজিজ জেলা বিএনপির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক। তাঁকে বহিষ্কারের এখতিয়ার জেলা কমিটির নেই। অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তাঁদের কাছে আসা তথ্য-প্রমাণ কেন্দ্রে পাঠানো হবে। পাশাপাশি তাঁর ছেলের অপরাধের বিষয়টি তদন্তকারী সংস্থা দেখবে।
১৪ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর রাতে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
হামলার ঘটনায় শাকিলের বাবা রবিউল করিম আগেই একটি মামলা করেছিলেন। শাকিলের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয় এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামি হিসেবে নূরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বৃহস্পতিবার মো. আলামিন (২৫) ও আনিছুর রহমান (২৬) নামের আরও দুজনকে আটক করেছে ডিবি।