বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, প্রক্সি জালিয়াতিতে ধরা পড়া বায়েজিদ একেক সময় একেক নাম বলেছেন। একাধিক নাম এসেছে। সেখানে মুশফিক তাহমিদের নামও বলেছেন। এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে দেখবে। তাঁরা এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি সূত্র বলছে, অনেক আগে থেকেই মুশফিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রক্সি সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। এর আগে ২০১৭ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের মাদক অধিশাখার গোপন প্রতিবেদনের তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল।

ভিডিও নজরে আসার পর গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে এ বিষয়ে একাধিকবার ফোন করেও ছাত্রলীগ নেতা মুশফিক তাহমিদ তন্ময়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাতের দিকে একবার ফোন ঢুকলেও কেটে দেন তিনি। এর পর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তাঁর হলে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া প্রথম আলোকে বলেন, তাঁকে অনেকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি ওই ভিডিও এখনো দেখেননি। যদি প্রক্সির মতো অসাধু কোনো কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেন, তিনি বিষয়টি জেনেছেন। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে তাঁরা অবগত করবেন। তদন্তে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মো. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ওখানে একাধিক নাম এসেছে। একজন অপরাধী বাঁচার জন্য অনেক নামই বলে থাকেন। সেটা সত্যও হতে পারে, আবার মিথ্যাও হতে পারে। এগুলো তদন্তের বিষয়। এগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চয় তদন্ত করে বের করবেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ‘এ’ ইউনিটের (মানবিক শাখা) দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষায় সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবনে প্রক্সি দেওয়া অবস্থায় ধরা পড়েন বায়েজিদ। তিনি মূল পরীক্ষার্থী তানভীর আহম্মেদের হয়ে প্রক্সি দিচ্ছিলেন। একই দিন আরও তিনজনকে প্রক্সির ঘটনায় কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

একই ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এখলাসুর রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল মেহজাবীন। এখলাসুর রহমান ভর্তি পরীক্ষার রোল ১৭২২৮-এর পরীক্ষার্থী লিমনের হয়ে ও ৬২৮২৮ রোলের পরীক্ষার্থী মোসা. ইশরাত জাহানের হয়ে জান্নাতুল মেহজাবিন পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। তৃতীয় শিফটে মো. রাহাত আমিনের হয়ে পরীক্ষা দেন সমীর রায় (২৬)। সমীর রায় খুলনা মেডিকেলের সাবেক শিক্ষার্থী। সেখানকার একটি বেসরকারি মেডিকেলের প্রভাষকও তিনি। মাথায় ও মুখে ব্যান্ডেজ বেঁধে তিনি প্রক্সি দিচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে জান্নাতুল মেহজাবিনকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মেহজাবিন এর আগেও পরীক্ষায় এ ধরনের জালিয়াতি করেছেন বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। বাকিদের এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন