বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেলে রোগীর অক্সিজেনের নল খুলে নেওয়ার অভিযোগ, মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

দিপালী রানী সিকদারছবি: সংগৃহীত

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেনের নল খুলে দেওয়ায় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিপালী রানী সিকদার (৪৫) নামের ওই রোগী গত বুধবার বিকেলে মারা যান।

এ ঘটনায় আজ শনিবার দুপুরে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে দিপালীর ভাই মিলন হালদার লিখিত অভিযোগ দিলে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি অভিযুক্ত ট্রলিম্যান মো. সোহেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৩ মে দুপুরে গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিমেল মেডিসিন ইউনিট-১-এ ভর্তি হন বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা দিপালী রানী। হাসপাতালে শয্যা খালি না থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে ট্রলিতে রেখেই অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা দুই ঘণ্টা অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দিলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর ট্রলিম্যান সোহেল অক্সিজেনের নল খুলে ট্রলিটি অন্যত্র নিয়ে যান। অক্সিজেন–সহায়তা না পেয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে দিপালীর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

দিপালীর ভাই মিলন হালদার বলেন, ‘আমি নিজে ঘটনাস্থলে ছিলাম। দেখেছি, অন্য এক রোগীর কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়ে ট্রলিম্যান সোহেল অক্সিজেনের নল খুলে ট্রলি নিয়ে যায়। আমার বোন তখনো জীবিত ছিলেন। অক্সিজেন বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই তাঁর মৃত্যু হয়। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; এটি অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’ তিনি আরও বলেন, শুধু সাময়িক বরখাস্ত করলেই হবে না। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আজ তাঁর বোন মারা গেছে। কাল অন্য কারও স্বজন মারা যেতে পারেন।

এদিকে এ ঘটনায় হাসপাতালে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার। এ সময় সাংবাদিকেরা তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেন।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার আগেই অভিযুক্ত আউটসোর্সিং ট্রলিম্যান সোহেলকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি উপপরিচালক এ কে এম নজমুল আহসানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বরিশাল নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার ভঙ্গুর দশা, দুর্নীতি ও জবাবদিহির খণ্ডিত চিত্র ফুটে উঠেছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটাকে কখনোই অবহেলাজনিত মৃত্যু বলা যাবে না; বরং এটা কাঠামোগত হত্যা। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাবদিহি ও বিচারের আওতায় আনা উচিত।