অবশেষে প্রতিবেদন জমা দিল হাসপাতাল প্রশাসনের তদন্ত কমিটি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটতলা ভবনের চারটি সিঁড়ির গেটে তালা ছিল। অগ্নিকাণ্ডের পর রোগী ও স্বজনেরা তালা ভেঙে বের হনছবি: প্রথম আলো

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি দুই দফা সময় নিয়ে অবশেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে তদন্তে কী উঠে এসেছে, সে বিষয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। আজ সোমবার দুপুরে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ও তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান। আজ সোমবার বিকেল চারটার দিকে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনটি খুবই গোপনীয়, সে কারণে সিলবদ্ধ খামে স্যারের (হাসপাতাল পরিচালক) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। স্যার সেটি আজ পড়ার সুযোগ পাননি। আগামীকাল প্রতিবেদন দেখার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরিচালক স্যারের মাধ্যমে জানা যাবে।’

আরও পড়ুন

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৫ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। এতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই প্রকৌশলীকে রাখায় সমালোচনা হলে সেটি বাতিল করা হয়। পরের দিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

কমিটিতে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে নতুন কমিটির প্রধান করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ, কারও গাফিলতি ছিল কি না, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশ করতে বলা হয় কমিটিকে। প্রথম দফায় পাঁচ কার্যদিবস ও দ্বিতীয় দফায় তিন কার্যদিবস সময় বাড়িয়ে তদন্তকাজ শেষে আজ প্রতিবেদন দিতে পেরেছে কমিটি।

তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে কমিটির প্রধান গোলাম রহমান ভুঁইয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন ও উপপরিচালক জাকিউল ইসলামের মুঠোফোনে কল করা হয়। তাঁদের কেউ ফোন ধরেননি।

আরও পড়ুন

এদিকে একই ঘটনায় ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতির কাজ করছি। কমিটির সব সদস্যের আলাদা মতামত গ্রহণ করে সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্তকাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত প্রতিবেদন দিতে পারব।’

১৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের আটতলা ভবনের ১১ নম্বর লিফটে আগুন লাগে। পরে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। চারজনের মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন পদদলিত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নাকচ করে আসছে।