এবার ভাসমান নৌকা থেকে গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার, পদ্মার চরে ৯ মাসে ৭ খুন
নাটোরের লালপুর উপজেলার রাইটার চর এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাসমান একটি নৌকা থেকে একটি গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে লাশটি যৌথভাবে উদ্ধার করে লালপুর থানা–পুলিশ ও লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ ভোরের দিকে দুর্বৃত্তরা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে বেপরোয়া গুলি করে তাঁকে হত্যা করে। এ সময় একজন মৎস্যজীবী আহত হয়েছেন। তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম সাহাবুল ইসলাম (৪৫)। তিনি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া গোপালপুর গ্রামের ইউনুস প্রামাণিকের ছেলে। আহত হয়েছেন রবিউল ইসলাম মোল্লা (৩৭)। তিনি একই উপজেলার সাঁড়া চানমারি গ্রামের আবদুল হক মোল্লার ছেলে।
এর আগে ৯ জুন লালপুরের চরজাজিরা এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাসমান একটি স্পিডবোট থেকে এক তরুণের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। চরে বিভিন্ন পক্ষের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ পদ্মার চরে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যরা চরের বালু ও জমি দখল নিয়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটান। তাঁরা এক চরে অপরাধ করে আরেক চরে গিয়ে আশ্রয় নেয়। কখনো চরের বিশাল কলাবাগান, আবার একেবারে সীমান্তের শূন্যরেখায় মাঠের মধ্যে গিয়ে আস্তানা গড়ে তোলে তারা।
লালপুর থানা ও লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে রাইটার চর এলাকায় একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত পদ্মা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ভাসমান নৌকায় বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করে। এতে কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাহাবুল ইসলাম ঘটনাস্থলে মারা যায়। নৌকার মাঝি রবিউল ইসলাম মোল্লা আহত হয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন। দুর্বৃত্তরা চলে গেলে তিনি তীরে উঠে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকেন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সকালে খবর পেয়ে লালপুর থানার পুলিশ ও নৌ পুলিশ চরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বেলা তিনটার দিকে রায়টার চর থেকে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। ঘটনার পর চরের আশপাশের এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাইটার চরের এক কৃষক জানান, চরে বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। ৯ জুন চরজাজিরা এলাকায় ভাসমান স্পিডবোট থেকে এক তরুণের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের পর উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। হতাহত ব্যক্তিরা কুখ্যাত কাকন বাহিনীর পক্ষ-বিপক্ষের লোক।
লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম মিয়া আজ বিকেল চারটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নৌকায় লাশ নিয়ে পদ্মা নদী পার হচ্ছি। নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত শেষ করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বালুমহাল নিয়ে চরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তবে আজ কে বা কারা কেন হতাহত করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, আজকের হতাহতের ঘটনাটি কী কারণে কারা ঘটিয়েছে, তা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না। নৌ পুলিশ ঘটনার তদন্ত করবে।