সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান হত্যায় আরও একজন গ্রেপ্তার, জড়িত ৭ জনের নাম পাওয়ার দাবি পুলিশের

গ্রেপ্তার আশিকুর রহমানছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি–১৪। গতকাল মঙ্গলবার রাত একটার দিকে দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মামলাটিতে দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণের (২৩) বাড়ি দুর্গাপুর পৌরসভার বাগিচাপাড়া এলাকায়। তিনি ওই এলাকার শাহিন মিয়ার ছেলে। আশিকুর আলোচিত শামীম আহমেদ ওরফে ‘শুটার’ শামীমের চাচাতো বোনের ছেলে এবং তাঁর সহযোগী বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুর্গাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলাম আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এসআরবি–১৪ এর একটি দল আশিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁকে দুর্গাপুরে নিয়ে আসতে ময়মনসিংহে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

লুৎফুজ্জামান হত্যাকাণ্ডে সাতজনের নাম পাওয়ার দাবি করেছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তদন্তে অনেকটাই এগিয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।’

আরও পড়ুন

এর আগে শনিবার রাত একটার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকার পুরোনো সিনেমা হলের পাশ থেকে সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব (৩০) নামের আরেক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আলোচিত তাজুল ইসলামের (৩৮) সহযোগী হিসেবে পরিচিত সাজিবুল। গত সোমবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরে গতকাল মঙ্গলবার আদালত আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুনজিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি দোকানের সামনে গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে ছয়টি গুলি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

এ ঘটনায় লুৎফুজ্জামানের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নেত্রকোনার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। তিনি বলেন, আসামিদের শনাক্ত করতে পুলিশ অনেকটাই এগিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

আরও পড়ুন