আদেশের কপিটি পেয়েছেন জানিয়ে ওসি মোহাম্মদ গোলাম মস্তুফা প্রথম আলোকে বলেন, গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে ওই জায়গায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানটিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। দুই পক্ষকে আপাতত ওই জায়গায় যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

বিল্লাল হোসেনের দাবি, ২০ বছর আগে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তিনি গাছ লাগিয়েছিলেন। কর্মসূচির একজন উপকারভোগী হিসেবে আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি গাছ কাটছিলেন। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের বাজরা গ্রামের বাসিন্দা।

আদালতের রায়ের বিপরীতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোনো আদেশ দিতে পারেন কি না, জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম বলেন, আদেশটি মূলত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ও উচ্চ আদালতে বন বিভাগের করা রিটের আলোকে করা হয়েছে। এই ভাবনা থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ ধরনের আদেশ দিতে পারেন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭-৯৮ সালে ভৈরব-কুলিয়ারচর মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেয় বন বিভাগ। এর মধ্যে কুলিয়ারচর অংশে রামদি ইউনিয়নের কোনাবাড়ি থেকে ছয়সুতির লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত মোট ১৪ কিলোমিটার। ওই এলাকায় ১০৫ উপকারভোগীর মাধ্যমে ২৮ হাজার গাছ লাগায় বন বিভাগ। পরবর্তী সময়ে একই জায়গায় কিছু গাছ লাগায় সওজ। বিল্লালের দাবি, ২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সওজের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে ৫ কিলোমিটার তিনি গাছ লাগিয়েছেন। এ নিয়ে বিল্লাল ও বন বিভাগের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়।

এ অবস্থায় ২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর চৌকি আদালতে মামলা করে রায় নিয়ে আসেন বিল্লাল। রায় অনুযায়ী তিনি ওই জায়গা থেকে ৯১০টি গাছ কাটার অনুমতি পান। গাছ কাটা বন্ধে ৬ জুলাই উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন বন বিভাগের ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। তবে রিটের আদেশ এখনো হয়নি। অন্যদিকে রায় পাওয়ার পর গত শনিবার থেকে বিল্লাল গাছ কাটা শুরু করেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় বন বিভাগ। গাছ কাটা থামাতে গতকাল কিশোরগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে অভিযোগ করেন কুলিয়ারচর উপজেলা বন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।

অভিযোগে বলা হয়, আদালত থেকে একতরফা রায় এনে বিল্লাল গাছ কাটছেন। ইতিমধ্যে ৬০ থেকে ৭০টি গাছ কেটে ফেলেছেন। কেটে ফেলা গাছের বাজারমূল্য দুই লাখ টাকা। জানতে পেরে তাঁরা উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। রিটের আদেশ না হওয়া পর্যন্ত গাছ কাটা বন্ধ রাখার অনুরোধ করায় তাঁদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেন বিল্লাল ও তাঁর সহযোগীরা। এতে সড়কের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বন বিভাগকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে তাঁরা আইনি লড়াই করছেন। এখন তাঁরা উচ্চ আদালতে করা রিট আদেশের অপেক্ষা করছেন।

এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে বিল্লালের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। বিল্লালের ছেলে ইসলাম উদ্দিনের মুঠোফোনে চেষ্টা করেও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে বিল্লালের ঘনিষ্ঠরা জানান, টাকা খরচ করে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করেছেন বিল্লাল। কাটার সময় যত বাধা। অনেক বাধা পেরিয়ে আদালতের রায় নিয়েই তিনি গাছ কাটছিলেন। বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা পকেট ভারী করতে এখন নানা অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি জটিল করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন