বক্তারা অভিযোগ করেন, মুজরাই মধ্যপাড়ার বাবুল মিয়া (১৯), রিশাদ মিয়া (১৮), পারভেজ মিয়া (১৮) ওই দিন ছাত্রীদের উত্ত্যক্তে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তী সময় এই তিনজনের নেতৃত্বে আবু বক্করকে পিটিয়ে মারা হয়। কর্মসূচি থেকে অভিযুক্ত বখাটেদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রামদী ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আসাদ মিয়া, সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রুমান খান, গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. বাদল মিয়া, পল্লিচিকিৎসক মো. কামাল হোসেন, বীর কাশিমনগর গ্রামের বাসিন্দা নাহিদুল হাসান, ফিরোজ মিয়া ও নিহত আবু বক্করের ছেলে বায়েজিদ মিয়া।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুজরাই গ্রামের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষিকা হাসিনা বেগম কিছু দিন ধরে অসুস্থ। গত মঙ্গলবার তাঁকে দেখতে বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রছাত্রী গ্রামে আসে। ফিরে যাওযার সময় গ্রামের কয়েকজন বখাটে পথ আটকে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করেন। এ ঘটনায় ওই বখাটেদের পরিবারের কাছে নালিশ করেছিলেন হাসিনা বেগমের প্রতিবেশী আনিছা বেগম। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বাড়িতে এসে আনিছাকে না পেয়ে তাঁর স্বামী আবু বক্করকে ঘর থেকে বাইরে এনে পিটিয়ে হত্যা করেন। আবু বক্কর পেশায় কৃষক ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহত আবু বক্করের ছেলে বায়েজিদ মিয়া বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় বাবুল, রিশাদ, পারভেজ ও রিশাদের বাবা আলম মিয়াকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ায় কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বায়েজিদ বলেন, ‘সেই দিন উত্ত্যক্তের শিকার হওয়া ছাত্রীরা গ্রামের ছিল না। মা সেটি মেনে নিতে পারেনি। সেই কারণেই প্রতিবাদ জানিয়েছিল। আমার বাবাও নানাভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। উত্ত্যক্তের বিচার চাওয়ার কারণে আজ আমার বাবাকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে।’

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তুফা আজ রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে চেষ্টা চলছে।