দুরন্ত বিপ্লব নিখোঁজের ঘটনায় তাঁর ছোট বোন শাশ্বতী বিপ্লব ৯ নভেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর ভাই ভাড়া বাসা থেকে খামারে যান। সেখান থেকে ৭ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে মোহাম্মদপুরে মায়ের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। এর পর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

দুরন্ত বিপ্লবের বোনের স্বামী ইমরুল খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিনি হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। আমাদের মাথায় আগে এমন ধারণা ছিল না যে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে। আমরা অবাক হয়েছি। আমাদের কাছে তাঁকে হত্যার কোনো ক্লু নেই। এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। আমরা এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

সুরতহালের সময় দুরন্ত বিপ্লবের ব্যবহৃত মুঠোফোন ও মানিব্যাগ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন পাগলা নৌ পুলিশের উপপরিদর্শক শাহজাহান আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দুরন্ত বিপ্লবের পকেটে ৩৫০ টাকা পাওয়া গেছে। তাঁর পরিচয় শনাক্ত করার মতো কিছু পাওয়া যায়নি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে দুরন্ত বিপ্লবের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক মফিজ উদ্দিন প্রধান বলেছেন, ময়নাতদন্তে মাথা ও বুকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। বেলা দেড়টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে দুরন্ত বিপ্লবের মরদেহ মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটিতে নিয়ে গেছেন স্বজনেরা। সেখানে জানাজা শেষে রায়েরবাগ কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘লাশ গলে গেছে। সুরতহালে আঘাতের বিষয়টি বোঝা যায়নি। ঠোটা এলাকায় ট্রলার থেকে যাত্রী পড়ে যাওয়ার কথা শুনছি। এখনো এই ঘটনায় মামলা হয়নি। তদন্তের দায়িত্ব পেলে নৌ পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’

গতকাল শনিবার বিকেলে বুড়িগঙ্গা নদীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। ওই দিন রাত ১২টার দিকে লাশটি দুরন্ত বিপ্লবের বলে শনাক্ত করেন স্বজনেরা।