ঋণ থেকে দায়মুক্ত হয়ে উচ্ছ্বসিত সিলেটের রিকশাচালক শামীম

সিলেটের রিকশাচালক শামীম আহমদের কাছে ঋণ পরিশোধের কাগজপত্র ও নগদ টাকা তুলে দেওয়া হয়। আজ বুধবার বিকেলে নগরের নবাবরোড এলাকায়
ছবি : প্রথম আলো

ঢাকার এক সহৃদয় ব্যক্তির সহায়তায় সিলেটের রিকশাচালক শামীম আহমদ ঋণের দায় থেকে মুক্ত হয়েছেন। টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে দুই বছর বয়সে শামীমের বাঁ পা চিকন হয়ে যায়। চার বছর বয়সে বাবাকে হারান। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সিলেট শহরে রিকশা চালিয়ে সংসার চালান তিনি।

শামীমের জীবনসংগ্রাম নিয়ে প্রথম আলো অনলাইনে ১৪ আগস্ট ‘মায়ের ওষুধ কিনমু না মাইয়ার লাগি দুধ কিনমু, ধন্দে থাকি’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর ঢাকায় বসবাসরত এক ব্যক্তি শামীমের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। এরই অংশ হিসেবে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে শামীমের নেওয়া ঋণের টাকা আজ বুধবার বিকেলে পরিশোধ করা হয়।

শামীমকে তাঁর মা কোলেপিঠে বড় করেছেন। একসময় শামীমের ছোট ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার পাতেন। বয়স হওয়ায় মা আগের মতো মানুষের বাড়িতে কিংবা রেস্তোরাঁয় কাজে যেতে পারেন না। স্বামী ভবঘুরে হওয়ায় বিবাহিত বোনও একসময় দুই সন্তানকে নিয়ে শামীমের বাড়িতে হাজির হন।

মা, বোন আর বোনের সন্তানদের নিয়ে শুরু হয় শামীম আহমদের (২৬) সংগ্রামমুখর জীবন। তিনি এখন সিলেট শহরে অটোরিকশা চালান। এ থেকে সীমিত আয় হয়। এই আয়েই তাঁকে সংসার চালাতে হচ্ছে। এর মধ্যে তিনি বিয়ে করেছেন, তাঁর মেয়েটার বয়স দুই মাস। জন্মের পর থেকে মেয়ে মায়ের বুকের দুধ পায় না। তাই মেয়েকে গুঁড়া দুধ খাওয়াতে হচ্ছে। টাকার অভাবে অসুস্থ মায়ের ওষুধও নিয়মিত কিনতে পারেন না। এভাবেই কষ্টে চলছে শামীমের দিনরাত।

আজ বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকার ওই ব্যক্তির পাঠানো প্রতিনিধি ও সিলেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. হাবিবুর রহমান নগরের নবাবরোড এলাকার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাটিতে গিয়ে শামীমের ঋণের ২৯ হাজার ১০০ টাকা পরিশোধ করেন। এ সময় শামীমের পরিবারের জন্য নগদ ৫ হাজার ৯০০ টাকাও তুলে দেন তিনি।

ঋণ পরিশোধকালে ব্যবসায়ী মো. হাবিবুর রহমান ছাড়াও রিকশা, ব্যাটারি রিকশা ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ সিলেটের সভাপতি প্রণব জ্যোতি পাল, সমাজসেবী মো. শওকত আলী বেলাল ও পলাশ তালুকদার উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা রিকশাচালক শামীম আহমদ ও তাঁর বোন মণি আক্তারের কাছে ঋণ পরিশোধের কাগজপত্র ও নগদ টাকা তুলে দেন। এ সময় হাবিবুর রহমান বলেন, আগামী মাসে ঢাকার ওই সহৃদয় ব্যক্তির সহায়তায় শামীমকে একটি অটোরিকশা কিনে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রিকশাচালক শামীম আহমদ বলেন, ‘আমি একজন প্রতিবন্ধী হলেও অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের খরচ মেটাই। একটা এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে অটোরিকশা কিনেছিলাম। কয়েক দিন পর সেটি চুরি হয়ে যায়। তবে রিকশা না থাকলেও ঋণের টাকা ঠিকই শোধ করতে হচ্ছে। এ ছাড়া ভাড়ায় যে রিকশাটি এখন চালাই, এর ভাড়াবাবদ দৈনিক মালিককে টাকা দিতে হচ্ছে। প্রথম আলোতে সংবাদ প্রকাশের পর আমার ঋণ একজন শোধ করে দিয়েছেন। আমার দুর্দশা অনেকটাই দূর হয়েছে। আমি খুবই খুশি।’

প্রণব জ্যোতি পাল বলেন, একজন সহৃদয় ব্যক্তির সহায়তার ফলে শামীমের দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়েছে।