আজ শনিবার সকালে ভাদেশ্বর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলামের (৬০) এই ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে অটোরিকশাভাড়া লেগেছে ২০০ টাকা। সিলেট নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির গণসমাবেশে যোগ দিতে এসেছেন তিনি। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বিএনপির বেশির ভাগ নেতা–কর্মী গতকাল শুক্রবার সিলেটে এসেছেন। তবে আমন ধান কাটার ব্যস্ততা থাকায় নুরুল ইসলাম গতকাল আসতে পারেননি। আজ দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির গণসমাবেশস্থলের পাশে চৌহাট্টা মোড়ে নুরুল ইসলামের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। নুরুল নিজেকে বিএনপির সমর্থক বলেই পরিচয় দিলেন।

নুরুল ইসলাম বলেন, তাঁর বাড়ি থেকে সিলেট নগরে আসতে সাধারণত এক ঘণ্টা সময় লাগে। তবে আজ ভেঙে ভেঙে আসতে হয়েছে বলে সময় বেশি লেগেছে। তিনিসহ গ্রামের পাঁচজন মিলে সকাল আটটায় একটি অটোরিকশায় গোলাপগঞ্জ এসেছেন। ওই অটোরিকশা জনপ্রতি ১০০ টাকা নিয়েছে। গোলাপগঞ্জ থেকে সিলেট কিনব্রিজের মুখে আসতে আবার জনপ্রতি ১০০ টাকা খরচ হয়েছে।

সিলেটে বিএনপির গণসমাবেশ ঘিরে আজ পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে নগরে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ আছে। এতে বিএনপির নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি নগরের সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। সড়কে অল্প কিছু অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল করলেও অন্য দিনের তুলনায় ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে সাধারণ যাত্রীরা অভিযোগ করছেন।

নুরুল বলেন, ‘পথে দুবার পুলিশের তল্লাশিচৌকি দেখে আগেই গাড়ি থেকে নেমে কিছু জায়গা হেঁটেছি। পরে চালক খালি গাড়ি নিয়ে আসার পর আবার উঠেছি। এভাবে গোলাপগঞ্জ সদরের কাছে পুলিশ একবার গাড়ি আটকিয়েছে। সিলেট শহরে আসার আগে আরও একবার পুলিশ গাড়ি আটকিয়েছে। এতে এক ঘণ্টার রাস্তা আসতে প্রায় দুই ঘণ্টা লেগেছে।’

মাঠে পাকা ধান রেখে গণসমাবেশে আসার উদ্দেশ্য জানতে চাইলে নুরুল বলেন, ‘দেশটাতে শান্তিতে নাই। অনেক দিন থেকে এক সরকার ক্ষমতায় বসে আছে। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে না, বুঝেও না। কারও কথা সরকার শুনেও না। দেশে শান্তি আনার জন্য এই সরকার বদলানো দরকার। তাই বিএনপির এই সমাবেশে আসলাম।’

জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, দলের পাঁচ নেতা-কর্মীকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীন সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি সারা দেশে ধারাবাহিকভাবে গণসমাবেশ করছে। আজ শনিবার সিলেট নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেটের বিভাগীয় গণসমাবেশ শুরু হয়েছে।