দলীয় কর্মীরা বলেন, আবদুল মান্নান শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি রাজনীতি ছাড়াও বগুড়ায় পরিবহন এবং ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত বছর অনুষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন তিনি। নির্বাচনে হারলেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থীর চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি ভোট পেয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চান আবদুল মান্নান। তবে দল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মকবুল হোসেনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আবদুল মান্নান একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া শহরে স্টেশন সড়কে রেলওয়ে থেকে ইজারা নেওয়া ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৭ ফুট জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসেন আলী সরকার রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট সুপার মার্কেট। আবদুল মান্নান আকন্দ এ মার্কেটের নির্মাণকাজের ঠিকাদার। আর মার্কেটটি পরিচালনা করছে রেলওয়ে মার্কেট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। ওই সমিতির সভাপতি রেলওয়ের সাবেক লোকো মাস্টার হায়দার আলী সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক তাঁর ছেলে ও বগুড়া স্টেশনের বুকিং সহকারী রায়হান কবীর। হায়দার আলী রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক পরিচালকও।

নির্মাণকাজ শেষে দোকান বুকিংয়ের টাকা নিয়ে ঠিকাদার আবদুল মান্নান আকন্দ ও রায়হান কবীরের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। অন্যদিকে মার্কেটের পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে ৮০টি দোকান নির্মাণ করে তা ইজারা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ঠিকাদার আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে লালমনিরহাটের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা পূর্ণেন্দু দেবের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে পার্কিংয়ের জায়গায় অবৈধভাবে নির্মিত ৮০টি দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে আবদুল মান্নান সেখানকার একটি রেস্তোরাঁ ভেঙে ফেলার জন্য চাপ দেন। ওই রেস্তোরাঁর মালিক হায়দার আলী সরকার। এ সময় পুলিশের সামনেই আবদুল মান্নানের সমর্থকেরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রায়হান কবীরকে মারধর করেন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা হায়দার আলী সরকার বাদী হয়ে আবদুল মান্নান আকন্দসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।

বগুড়া আদালতের পরিদর্শক সুব্রত কুমার ব্যানার্জি প্রথম আলোকে বলেন, মামলার এজাহারনামীয় অন্য ১১ আসামি আগেই আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। আজ সকালে প্রধান আসামি আবদুল মান্নান আকন্দ আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আসামি আবদুল মান্নানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন