জয়পুরহাট সীমান্তে খুঁটি-কাঁটাতারের বেড়া সরানো শুরু করেনি বিএসএফ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পূর্ব উঁচনা ঘোনাপাড়া সীমান্তে ২৮১ নম্বর মূল পিলারের ৩৩ ও ৩৪ সাব–পিলার। গতকাল তোলাছবি: প্রথম আলো

পতাকা বৈঠকে দেওয়া আশ্বাসের পর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পূর্ব উঁচনা ঘোনাপাড়া সীমান্ত থেকে কাঁটাতারের বেড়া ও খুঁটি সরানো শুরু করেনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে ভারত সীমান্তের ভেতরে নতুন করে খুঁটি ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।

আজ বুধবার বিজিবি ২০ জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের অধীন হাটখোলা বিওপির কোম্পানি কমান্ডার ও ঘোনাপাড়া সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

বিজিবির হাটখোলা বিওপি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তের ২৮১ নম্বর মূল পিলারের ৩৩, ৩৪ ও ৩৫ নম্বর সাব–পিলারের মাত্র ২০ গজ দূরে ভারতের ভেতরে বাঁশের খুঁটি পোঁতা ও কাঁটাতারের বেড়ার কাজ করছিল বিএসএফ। এটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের লঙ্ঘন। সকালে জমিতে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশের ঘোনাপাড়া সীমান্তের বাসিন্দারা নির্মাণকাজ দেখতে পেয়ে হাটখোলা বিওপি কমান্ডারকে জানান। পরে বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে কাজ বন্ধ রাখেন বিএসএফের সদস্যরা। বিজিবি তাদের পতাকা বৈঠকে আমন্ত্রণ জানালেও প্রথমে বিএসএফ সাড়া দেয়নি। পরে বিজিবি পত্র দিয়ে বেলা তিনটায় পতাকা বৈঠকের আমন্ত্রণ জানায়। বিএসএফের ১২৩ ব্যাটালিয়নের অধীন চকগোপাল ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার পতাকা বৈঠকে সাড়া দেন। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়।

বিজিবির কমান্ডার শাহ জাহান বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে মাত্র ২০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও খুঁটি পুঁতেছিল বিএসএফ। পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়া ও বাঁশের খুঁটি সরানোর আশ্বাস দেয়।

ঘোনাপাড়া সীমান্তের ১০-১২ জন বাসিন্দার ভাষ্য, আজ তাঁরা ২৮১ নম্বর মূল পিলারের ৩৩, ৩৪ ও ৩৫ নম্বর সাব–পিলারের কাছাকাছি গিয়েছিলেন। সেখানে কাঁটাতারের বেড়া ও বাঁশের খুঁটি পোঁতা আছে। তবে দিনের বেলায় বিএসএফ সদস্যদের নতুন করে কাজ করতে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে কমান্ডার শাহ জাহান আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, কাঁটাতারের বেড়া ও বাঁশের খুঁটি অপসারণ না করলেও নতুন করে কোনো কাজ করেনি বিএসএফ। সীমান্ত পরিস্থিতি এখন ভালো আছে। এ বিষয়ে আজ তাঁরা আবারও বিএসএফের সঙ্গে কথা বলবেন।