আয়োজনের শুরুতে বড় পর্দায় ‘জার্নি ভিডিও’, ‘মজুমদার স্যার’ ও ‘আকতার স্যার’ শিরোনামে তিনটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওগুলো দেখে অতিথিরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ‘মজুমদার স্যার’ ভিডিওর শেষ দৃশ্যে ‘স্যার, কত দিন আপনার আবৃত্তি শুনি না’ ডায়ালগ শুনে অনেককে চোখ মুছতে দেখা যায়। বক্তব্যে শিক্ষকদের নানা স্মৃতির কথা উঠে আসে।

রাজশাহী বন্ধুসভার সভাপতি সাব্বির খানের সভাপতিত্বে এবং উপদেষ্টা মো. ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় সুধী সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন আইপিডিসির ব্যবস্থাপক মনোতোষ চন্দ্র ঘোষ, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইকবাল মতিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, ধারাভাষ্যকার ও শিক্ষক আবদুর রোকন, শিক্ষক ও কৃষি জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর শাহ্, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিনিধি দুলাল চক্রবর্তী, প্রাথমিকে রাজশাহী বিভাগের নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ঘোড়ামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী রোধে রাজশাহীর শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় পুঠিয়া উপজেলার ধাদাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলরুবা খাতুন, প্রথম আলোর রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ প্রমুখ।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক রেজিনা খাতুন, রাজশাহী বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি বেলাল হোসেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক রিপন মাহমুদ, প্রথম আলোর রাজশাহীর বিজ্ঞাপন সহযোগী সবুজ সরকার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সভাপতি সুরুজ সরদার, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক জাহিদ প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্যে আইপিডিসির প্রতিনিধি মনোতোষ চন্দ্র ঘোষ বলেন, সবার জীবনে ভালো কিছু শিক্ষক থাকেন। তাঁদের মাধ্যমেই জীবনটা ভালোভাবে গড়ে তোলা যায়। তাঁরাই প্রিয় শিক্ষক। দেশজুড়ে এমন অনন্য শিক্ষকদের সম্মান জানাতে উদ্যোগ নিয়েছে প্রথম আলো-আইপিডিসি। তিনি প্রিয় শিক্ষকদের মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানান।

মাউশির উপপরিচালক শরমিন ফেরদৌস বলেন, ‘খুবই সুন্দর একটি অনুষ্ঠান। যে ভিডিওগুলো উপভোগ করলাম, তাঁরা সবাই আলোকিত। আমাদের মধ্যেই এমন অনেক শিক্ষক আছেন, যাঁরা অর্ধেক আলোতে, অর্ধেক অন্ধকারে আছেন। আমরা যেন এখান থেকে ফিরে তাঁদের হাতটা ধরি। তাঁদের মধ্যে আলোকিত হওয়ার বোধ জাগ্রত করতে পারলে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা সহজ হবে।’ তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রথম আলো যে বলে না তাঁকে বলায়। প্রথম আলোর অনেক ভালো কাজ আছে। প্রথম আলো যেন শিক্ষকদের মধ্যে এমন মানসিকতা তৈরি করে, যাতে শিক্ষকেরা নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারেন। তাঁরা আলোকিত হয়ে ছাত্রদের আলোকিত করতে পারেন।

রুয়েটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইকবাল মতিন বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। কিন্তু যাঁরা প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকতা করেন, তাঁদের মানমর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে। তাঁরা প্রস্তুত করা ছাত্র পেলেও ছাত্রদের তৈরি করে দেন উনারা। তিনি তাঁর শিক্ষাগুরুদের স্মৃতিচারণা ও অধ্যাপনা জীবনের অভিজ্ঞতার কথা শোনান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, জীবনের কথা বলার একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম পেয়েছেন তিনি। এটা তৈরি করে দিয়েছে প্রথম আলো ও আইপিডিসি। স্মৃতিচারণা করে দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি শেষ দিক থেকে দুই নম্বর ছাত্র ছিলেন। কোনো শিক্ষক তাঁকে পড়াতে চাইতেন না। যদি ফেল করে, এ লজ্জায়। পরে সাইফুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক তাঁকে পড়ান। ওই শিক্ষক তাঁর হাত ধরে সামনে এগিয়ে নিয়েছিলেন। এখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন।

ধারাভাষ্যকার ও শিক্ষক আবদুর রোকন বলেন, প্রথম আলো অনেক ভালো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁরা শিক্ষককে সম্মান দিতে এ আয়োজন করেছে। এখন দালানকোঠার ভিড়ে ভালো শিক্ষক ও শিক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রথম আলো এ পরিস্থিতিতেও যাঁরা প্রকৃত শিক্ষা দিচ্ছেন, তাঁদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানাচ্ছে।

প্রাথমিকে রাজশাহী বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক আইয়ুব আলী বলেন, তিনি যখন বিদ্যালয়ে ঢোকেন, ছাত্ররা তাঁর সঙ্গে হ্যান্ডশেক করতে আসে। এটা কী আনন্দের বলে বোঝানো যাবে না। এ পেশায় তিনি স্বেচ্ছায় এসেছেন এবং দারুণ উপভোগ করছেন।

আয়োজকেরা জানান, অনলাইনে (www.priyoshikkhok.com) নির্ধারিত ফরম পূরণ করে মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। এ ছাড়া ওই ওয়েবসাইট থেকে পিডিএফ ফরম ডাউনলোড করে তা পূরণের পর ডাকযোগেও মনোনয়ন পাঠানো যাবে। মনোনয়ন কার্যক্রম চলবে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত।