দুপুরে শহর ঘুরে দেখা যায়, যানবাহনের অভাবে হেঁটে যাতায়াত করছে মানুষ। যাদের সঙ্গে ভারী ব্যাগ আছে, তাদের আরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জেনারেল হাসপাতালের সামনে দেখা যায়, দুই নারী ও এক বৃদ্ধ দুটি ভারী ব্যাগ নিয়ে নতুন বাস টার্মিনালের দিকে যাচ্ছেন। ওই বৃদ্ধের নাম আজগর আলী, বাড়ি কালিহাতী উপজেলায়। তিনি বলেন, ‘তাঁরা মিছিল-মিটিং করব ভালো কথা, গাড়ি বন্ধ রাইখা আমাগো কষ্টে ফালানোর কী দরকার।’

নতুন বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, পুরো টার্মিনালে একটি বাস-মিনিবাসও নেই। পরিবহনশ্রমিকেরা জড়ো হচ্ছেন সম্মেলনে যাওয়ার জন্য। বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টার থেকে জানা যায়, সকালে ঢাকার দিকে দু-তিনটি গাড়ি গেছে। তার পর থেকে বন্ধ রয়েছে। অনেক যাত্রী এসে ঘুরে যাচ্ছেন। আবার অনেকেই টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন। যখন বাস চালু হবে, তখন গন্তব্যের উদ্দেশে যাবেন।

টার্মিনালে কথা হয় নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা শামসুল হকের সঙ্গে। তিনি জানান, আগের দিন ব্যবসায়িক কাজে টাঙ্গাইলে এসেছিলেন। দুপুর ১২টায় টার্মিনালে এসে দেখেন, কোনো বাস চলছে না। তিনি বসে আছেন, বাস চালু হলে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

অপর যাত্রী গাজীপুরের আবদুর রহমান বলেন, বিরোধী দল সমাবেশ ডাকলে বাস বন্ধ করে দেয়, যাতে মানুষ সমাবেশে যেতে না পারেন। আবার সরকারি দল সম্মেলনে লোক আনতে সব বাস নিয়ে নেয়। সব দিক দিয়েই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ।

ঢাকা রোডে শিবনাথ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দেখা যায়, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন মিছিল নিয়ে জড়ো হচ্ছে। বেলা পৌনে দুইটার দিকে কয়েক শ লোকের মিছিল সম্মেলনের উদ্দেশে রওনা হয়।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক ফেডারেশন দুই সপ্তাহ আগে সব শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা করে। সেই সভায় শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সব শ্রমিক সংগঠনের সদস্যদের আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যোগ দিতে বলা হয়।

টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান। তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বালা মিয়া জানান, তাঁরা কাউকে সম্মেলনে যোগদান করতে বাধ্য করেননি। যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্মেলনে যোগ দিয়েছে।