পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দলটির কর্মসূচি চলাকালে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সঙ্গে বিএনপির ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের ৬ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বলেন, ‘কামারখন্দে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলাম। এ সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা ও ককটেল নিক্ষেপ করে। শুধু তা–ই নয়, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলায় আমাদের সাবেক এমপিও আহত হয়েছেন। এখন পরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতা-কর্মীদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে ঘটনার পর গতকাল সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রতিবাদ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করে জেলা আওয়ামী লীগ। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসেন আলী হাসান অভিযোগ করেন, ‘আমাদের নেতা-কর্মীরা শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন, সে সময় বিএনপি নাশকতার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। বিএনপি আবার দেশে জ্বালাও–পোড়াও ও বোমাবাজি শুরু করেছে।’

সহকারী পুলিশ সুপার (কামারখন্দ সার্কেল) আদনান মুস্তাফিজ বলেন, গতকাল দুপুরে সংঘর্ষের পর কামারখন্দের জামতৈল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় উপজেলার উত্তর জামতৈল এলাকায় জেলা ট্রাক বন্দোবস্ত সমিতির কার্যালয়ের সামনে খোলা জায়গা থেকে একটি বিস্ফোরিত ও পাঁচটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে ককটেল কীভাবে এল, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করতে কামারখন্দে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল দলটি। সেখানে দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদসহ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আহত হয়েছেন।