চট্টগ্রামে যুবদল কর্মী করিম খুনে চারজন গ্রেপ্তার, হত্যার যে কারণ জানাল পুলিশ
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিম হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্র এবং দুটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার চট্টগ্রাম নগর ও হাটহাজারী এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট বাজারে মোটরসাইকেলে করে এসে ১০ থেকে ১২ জন অস্ত্রধারী কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেন যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে। পরদিন নিহত করিমের স্ত্রী বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে রাউজান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮), মো. সেলিম (৫০) ও মো. আলামিন (২৯)। তাঁদের মধ্যে শুক্কুর ও জাবেদকে নগরের চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেলিম ও আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয় হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে। তাঁদের সবার বাড়ি রাউজানের উরকিরচরে।
পুলিশ জানায়, শুক্কুর ও জাবেদের তথ্যে হত্যা মামলার পলাতক আসামি মো. পারভেজের পরিত্যক্ত একটি গরুর খামার থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি এবং দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে মো. পারভেজের মামা আজগর আলীর একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। পারভেজ ওই চুরির ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করে আসছিলেন। মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য করিমকে বলেন তিনি। তবে করিম চুরির বিষয়টি অস্বীকার করায় পারভেজ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।
পুলিশ জানায়, ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পারভেজ এক ব্যক্তির মাধ্যমে কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানীহাট বাজারে ডেকে আনেন। করিম আসা মাত্রই তাঁকে প্রথমে কুপিয়ে ও পরে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত যুবদল কর্মী করিম অন্তত ১০টি মামলার আসামি ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। এ সময় তাঁর সঙ্গে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।