এদিকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সকালে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, সিয়াম সরকার মুন্সিগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র। তাঁর বাড়ি তিতাস উপজেলার চরমোহনপুর গ্রামে। সিয়ামের এক চাচাতো বোনকে পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলার ব্রাহ্মণচর নয়াগাঁও আলিম মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী নাজমুল হাসান (১৯) উত্ত্যক্ত করতেন। এ নিয়ে সিয়ামের সঙ্গে ২০ দিন আগে নাজমুলের ঝগড়া হয়। তাঁদের মধ্যে মুঠোফোনেও কথা-কাটাকাটি হয়। এরই মধ্যে ১৩ সেপ্টেম্বর দাখিল পরীক্ষা উপলক্ষে নাজমুলসহ তাঁর আট বন্ধু গাজীপুর এলাকায় নাছির উদ্দিনের বাড়ি ভাড়া নেন। তাঁরা পরীক্ষা উপলক্ষে ওই বাড়িতে থাকেন। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু হয়।

গতকাল পরীক্ষা শেষ হয় বেলা একটায়। এর ১০ মিনিট পর সিয়াম মাদ্রাসার সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এ সময়ে নাজমুলকে দেখতে পেয়ে বলেন, ‘তুই আমার বোনকে ডিস্টার্ব করছ কেন?’ এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি হয়। তখন সিয়াম নাজমুলকে চড় দেন। একপর্যায়ে নাজমুলের অপর সহপাঠীরা এসে সিয়ামকে আটকিয়ে সড়কের পাশের একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যান। এরপর নাজমুলের এক সহপাঠী ভাড়া বাসায় গিয়ে ছুরি এনে সিয়ামের তলপেটে দুটি আঘাত করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর সিয়াম মারা যান।

ওসি বলেন, ঘটনার পর পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে চারজনের বয়স ১৯ বছর। তাঁরা হলেন—নাজমুল হাসান, সাকিব হোসেন, মাসুমবিল্লাহ ও সায়মন মিয়া। অপর চারজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরাটি উদ্ধার করে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন