শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে স্বজন–ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মৃত শিশুর স্বজনদের হাসপাতালে আটকে রাখার অভিযোগও উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। পরে হাসপাতাল প্রশাসন মুচলেকা নিয়ে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৃত শিশুর লাশসহ স্বজনদের ছেড়ে দেয়।
মারা যাওয়া শিশুটির নাম নিহান। তার বয়স পাঁচ মাস। সে বগুড়া শহরের সেউজগাড়ী ডাবতলা এলাকার মো. খোকনের ছেলে। খোকন বলেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত তাঁর শিশুসন্তানকে গত সোমবার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর শিশুটিকে রক্তও দেওয়া হয়। গতকাল দুপুরের পর থেকে নিহানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে সন্ধ্যার কিছু আগে মারা যায় সে।
খোকন আরও বলেন, নিহান মারা যাওয়ার সময় সেখানে তাঁর স্ত্রী ও বোন উপস্থিত ছিলেন। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁরা কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সকে জানান। কিন্তু তাঁরা বলেন, শিশুর শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। মারা যাওয়ার সময় সেখানে কোনো চিকিৎসক ও নার্স উপস্থিত ছিলেন না। মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ পর এক ইন্টার্ন চিকিৎসক সেখানে আসেন। তাঁর সঙ্গে বোনের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
খোকন বলেন, ‘আমার বোন চিকিৎসককে বলেন “এখন কেন এসেছেন? বাচ্চা মারা যাওয়ার পর এসে কী করবেন?” এ কথা বলে তিনি ওই চিকিৎসককে সামান্য ধাক্কা দিয়ে লাশের কাছ থেকে সরে যেতে বলেন। এরপর ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক ছড়িয়ে দেন যে তাঁর ওপর হামলা হয়েছে। এ সময় ৩০–৪০ ইন্টার্ন চিকিৎসক এসে আমার বোনসহ আমাকে ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধর করেন। খবর পেয়ে আমার ভাই সেখানে গেলে তাঁকেও দলবদ্ধভাবে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আমাকে, আমার স্ত্রী, বোন, ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের আটকে রাখা হয়। রাত ১১টার দিকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার পর সন্তানের লাশ নিয়ে বাড়ি আসি।’
রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে আসেন বিএমএ বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি আফসারুল হাবিব। তিনি বলেন, হাসপাতালে বেডের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ হলেও সেখানে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী ভর্তি থাকেন। তাঁদের সঙ্গে একাধিক স্বজনও থাকেন। ওই শিশুর সঙ্গে পরিবারের চার নারী ছিলেন। তাঁরা হাসপাতালের নারী চিকিৎসকের ওপর হামলা করেছেন এবং নেকাব টেনে খোলার চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় কারা দায়ী, তা জানতে বিএমএর পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘মারা যাওয়া শিশুটির সঙ্গে থাকা এক স্বজন চিকিৎসককে মারধর করেছেন এবং নেকাব খুলে ফেলার চেষ্টা করেছেন। পরে স্বজনদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল প্রশাসন কোনো পক্ষের ওপর হামলা সমর্থন করে না। তারপরও শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটা সেন্টিমেন্টাল ইস্যু তৈরি হয়েছে। আমরা রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা এখন অনুতপ্ত। নিজেদের ভুল স্বীকার করে মুচলেকা দিয়েছেন। এ ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’