জাল তুলতেই উঠে এল ১৫ কেজির পাঙাশ, প্রতি কেজি ১৩৪০ টাকা

ভোলার মনপুরা উপজেলার মেঘনা নদীতে ১৫ কেজি ওজনের পাঙাশ মাছ ধরা পড়েছে জেলের জালে। উপজেলার রামনেওয়াজ মাছঘাটে ওঠালে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তোলা ছবিসংগৃহীত

ভোলার মনপুরা উপজেলার মেঘনা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়েছে ১৫ কেজি ওজনের একটি পাঙাশ মাছ। স্থানীয় মৎস্যঘাটে নিলামে মাছটি প্রতি কেজি প্রায় ১ হাজার ৩৪০ টাকা দরে মোট ২০ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বড় আকৃতির পাঙাশ মাছটি দেখতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের রামনেওয়াজ মৎস্যঘাটে ভিড় করেন স্থানীয় জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও উৎসুক মানুষ।

আরও পড়ুন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলে আরিফ মাঝি মেঘনা নদীতে পাঙাশ ধরার জাল তুললে তাতে ধরা পড়ে ১৫ কেজি ওজনের মাছটি। পরে সেটি রামনেওয়াজ এলাকার মোমিন তালুকদারের মৎস্য আড়তে তোলা হলে নিলামে বিক্রি হয়।

জেলে আরিফ মাঝি বলেন, ‘মেঘনায় পাঙাশ ধরার জন্য জাল ফেলেছিলাম। জাল তুলতেই বড় মাছটি ধরা পড়ে। পরে আড়তে এনে বিক্রি করেছি।’
মৎস্য ব্যবসায়ী ফিরোজ ও নাহিদ জানান, ভ্যাটসহ প্রতি কেজি প্রায় ১ হাজার ৩৪০ টাকা দরে মাছটি কিনেছেন আড়তদার মোমিন তালুকদার। এত বড় পাঙাশ স্থানীয় বাজারে খুব কমই ওঠে বলে জানান তাঁরা।

মোমিন তালুকদার বলেন, মাছটি লঞ্চযোগে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর পাইকারি বাজারে পাঠানো হবে। সেখানে আরও ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মনপুরার জেলেরা আশা করছেন, মৌসুম অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহে মেঘনায় আরও বড় আকারের মাছ ধরা পড়তে পারে, যা তাঁদের আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।

চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমারের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে মেঘনা নদীতে স্রোত ও পানির গভীরতা বাড়ায় বড় আকারের দেশীয় মাছ ধরা পড়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। তবে ১৫ কেজি ওজনের পাঙাশ খুব একটা দেখা যায় না। এ কারণে এমন মাছ বাজারে উঠলে ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি থাকে।

এই মৎস্য কর্মকর্তা জানান, পাঙাশ বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক মাছগুলোর একটি। দেশে খামারে পাঙাশের উৎপাদন ব্যাপক হলেও নদী থেকে ধরা বড় আকারের দেশীয় পাঙাশ তুলনামূলকভাবে বিরল। স্বাদ ও আকারের কারণে এসব মাছের চাহিদা এবং দাম সাধারণ পাঙাশের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিবছর ইলিশ প্রজনন শেষে ওপর থেকে সাগর মোহনার নদীগুলোতে পাঙাশ আসে ডিম ছাড়ার জন্য।