ক্লাস শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রুবেল হোসেন বলেন, ‘অনেক দিন পর শ্রেণিকক্ষে আসতে পেরে ভালো লাগছে। শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কয়েক দিন পর আমাদের পরীক্ষা। দুই দিন আগেও অনিশ্চিত ছিলাম, ক্লাস-পরীক্ষা হবে কি না, আজ ক্লাস শুরু হয়েছে। এমনিতে দেড় বছরের সেশনজটে আছি। আর যেন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ না হয়, এটাই আমাদের দাবি।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনার সংশোধন ও ক্যাম্পাসের ভেতরে হাইটেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পের বিরোধিতা করে ৯ নভেম্বর থেকে এ কর্মবিরতি পালন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি সিদ্ধান্ত নেয়, সোমবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা চালু রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার। ক্লাস–পরীক্ষা চালু হলেও প্রশাসনিক কাজ বন্ধ অব্যাহত রেখে সোমবার থেকে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেন শিক্ষকেরা।

শিক্ষক সমিতির অবস্থান কর্মসূচির প্রথম দিন ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সামনে অবস্থান কর্মসূচি থাকলেও দুপুর ১২টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশে ১২-১৩ জন শিক্ষককে চেয়ারে বসে আছেন।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনার সংশোধন ও ক্যাম্পাসের ভেতরে হাইটেক পার্ক স্থাপন না করে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করে সেখানে স্থাপনের জন্য আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। আজ থেকে থেকে ক্লাস-পরীক্ষা চলছে। তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় ছাড়া প্রশাসনিক কোনো কাজে শিক্ষকেরা অংশগ্রহণ করবেন না।’

বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত মঙ্গলবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, শিক্ষকদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালা নির্দেশিকাটি হুবহু গ্রহণ করার বিষয়ে তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও রিজেন্ট বোর্ড তা অনুমোদন করেছে। এ ছাড়া স্বল্প আয়তনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে হাইটেক পার্ক নির্মাণের বিরোধিতা করেন তাঁরা।

এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলনের নবম দিনে ১৭ নভেম্বর শিক্ষক সমিতির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষ শিক্ষক সমিতির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২১ নভেম্বর থেকে একাডেমিক কার্যক্রমে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ চলবে। তবে ইউজিসির নির্দেশনার সংশোধন না করা পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলবে।